30 C
Dhaka

অবশেষে মাহি-জেনিফার দ্বন্দ্বের অবসান (ভিডিও)

প্রকাশিত:

অনেক জল ঘোলা হওয়ার পর অবশেষে ‘আশীর্বাদ’ ছবির প্রযোজক জেনিফার ফেরদৌসের সঙ্গে ছবিটিরি নায়িকা মাহিয়া মাহিসহ নায়ক জিয়াউল রোশান এবং পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। সব অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে সরকারি অনুদান পাওয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবিটি মুক্তি পেয়েছে আজ শুক্রবার, ২৬ আগস্ট।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে ‘আশীর্বাদ’। ছবিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং মুক্তিযোদ্ধা চরিত্রে দেখা যাবে হাল আমলের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জিয়াউল রোশানকে। ছবিটিতে তার নায়িকা হয়েছেন ‘অগ্নি’ নায়িকা মাহিয়া মাহি। ছবির পরিচালক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক।

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট রাতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির হস্তক্ষেপে ‘আশীর্বাদ’ ছবির প্রযোজকের সঙ্গে ছবির কলা-কুশলীদের তিক্ততার অবসান ঘটে।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনের উদ্যোগে এই বিরোধ মেটে। বিরোধ মিটে যাওয়ার সুখবর দিতে বৃহস্পতিবার রাতে এফডিসিতে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মাহি ও জেনিফার দুজনই বলেন, তাদের ভেতর যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল তার অবসান ঘটেছে। শুক্রবার, ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথাও নিশ্চিত করেন তারা।

‘আশীর্বাদ’ ছবি নিয়ে এর প্রযোজক জেনিফারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন ছবির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, নায়ক রোশান ও নায়িকা মাহি। মূলত ছবি মুক্তির তারিখ ঘোষণা নিয়ে শুরু হয় এই দ্বন্দ্ব। পরে তা গড়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণে। নায়ক-নায়িকাকে ছাড়াই ‘আশীর্বাদ’ ছবির মুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন পেশায় চলচ্চিত্র প্রযোজক ও উপস্থাপক জেনিফার ফেরদৌস। তিনি সংবাদ সম্মেলন মাহি ও রোশানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করেন। এর পরিপেক্ষিতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডাকেন মাহি ও রোশান। সেখানে প্রযোজকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তারা। এক পর্যায়ে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করারও হুমকি দেন।

এক পর্যায়ে মাহি বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, মাহি, রোশান ও জেনিফার ফেরদৌস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন, নিপুণ আক্তার, সাইমন সাদিকসহ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃবৃন্দ। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহির বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগকে ভুল বলে উল্লেখ করেন প্রযোজক জেনিফার। অন্যদিকে প্রযোজকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভুয়া বলে জানান মাহি।

এসময় ‘আশীর্বাদ’ ছবির নায়িকা মাহি বলেন, যা হবার হয়ে গেছে। আমাকে নিয়ে আপুর (প্রযোজক জেনিফার) মুখে যখন অন্যরকম কথা শুনছিলাম তখন আমারও মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। যাই হোক, যে যাকে যা বলেছি সব ভুয়া। মাহি আরও বলেন, যা যা হয়েছে তার সব কিছুই হয়েছে কমিনিউকেশন গ্যাপের কারণে। ফেসবুক মেসেঞ্জারে আশীর্বাদের একটি গ্রুপ খুলে যদি সবকিছু শেয়ার করা হতো তাহলে এটা হতো না। ছবিটি শুধু আপুর না, আমার, রোশান এবং পরিচালকেরও। শিল্পীরা ফুলের মতো কোমল। আদর করে বলে তাদের দিয়ে সবকিছু করিয়ে নেয়া সম্ভব।এমনকি ১২ ঘণ্টার জায়গায় ২৪ ঘণ্টাও তারা কাজ করতে পারে। আমি নিজেই এমন অনেক কাজ করেছি।

অন্যদিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রযোজক জেনিফার ফেরদৌস বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ‘আশীর্বাদ’ ছবির একে অন্যকে নিয়ে যে ধরনের বুলিং করা হচ্ছিল তার অবসান হলো আজ। আমাদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল তা মিটে গেছে। ছবির কাজ চলাকালীন আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। কিন্তু কীভাবে যেন কী হয়ে গেলো!

জেনিফার ফেরদৌস আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, তৃতীয় পক্ষ আমাদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। আমরা তাকে চিহ্নিতও করেছি। তবে নামটা সবার সামনে বলতে চাই না। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত আমাদের সব দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। মানিক (পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক) ও রোশানকে (নায়ক জিয়াউল রোশান) আমি ভাই ডাকি। তারা আমাকে ও ছবি (আশীর্বাদ) নিয়ে অনেক কথা বলেছে। তাতে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। এজন্য উত্তেজিত হয়ে কিছু কথা বলেছি যা ঠিক হয়নি। আবার তারা ছবি (আশীর্বাদ) সম্পর্কে যে কথাগুলো বলেছেন তা সঠিক নয়। আমরা সবাই রাগের মাথায় ভুল করেছি। পরে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছি। ছবির স্বার্থে সেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলো।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img