20 C
Dhaka

আপনি জানেন কি, দুই নাকের ছিদ্র দিয়ে সমান বায়ু প্রবাহিত হয় না!

প্রকাশিত:

অনেকেই হয়তো জানেন না, আমাদের নাকের দু‌টি ছিদ্র দিয়ে সবসময় সমান প‌রিমাণে বায়ু ঢুকতে বা বের হতে পারে না। বিষয়‌টি হয়তো অনেকে টেরও পান না। কিন্তু নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস একটু গভীরভাবে অনুভব করলে আপ‌নি নিজেই বিষয়‌টির সত্যতা নিশ্চিত হতে পারবেন।

প্রত্যেক মানুষের দেহের প্রতি‌টি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছন্দ মেনে অত্যন্ত সুচারুভাবে কাজ সম্পন্ন করে চলেছে। প্রতি‌নিয়ত নানা‌রকম কর্মকাণ্ড প‌রিচা‌লিত হচ্ছে রহস্যময় দেহযন্ত্রের ভেতর। আমাদের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক‌টি অঙ্গ হলো নাক। সং‌বেদনশীল এই অঙ্গ দিয়ে আমাদের শ্বাসকার্য প‌রিচা‌লিত হয়।

নাকের অন্য আরেক‌টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বিশেষ সং‌বেদী ঘ্রাণকোষের মাধ্যমে আমা‌দের গন্ধ বা ঘ্রা‌ণের অনুভূতি দেওয়া।শ্বাসতন্ত্রের প্রথম অংশ হলো নাক। বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং শরীর থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে নাক। নাকের রয়ে‌ছে এক জোড়া ছিদ্র।

নাকের দুটি ছিদ্র সবসময় সমানভাবে খোলা থাকে না। একটি একটু বে‌শি খোলা থাকে, আরেক‌টি একটু কম। বে‌শি খোলা ছিদ্র দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে শ্বাসবায়ু ঢুকতে বা বের হতে পারে। অন্যদিকে কম খোলা ছিদ্র দিয়ে অল্প পরিমাণে শ্বাসবায়ু ঢুকতে বা বের হতে পারে। নাকের ভেতরে অব‌স্থিত বিশেষ একটি হাড় বামে ও ডানে অবস্থান প‌রিবর্তন করায় নাকের ছিদ্রের ফাঁক কমবে‌শি হয় এবং দুই ছিদ্রে শ্বাসবায়ু প্রবাহের মাত্রার তারতম্য ঘটে।

এক‌টি নি‌র্দিষ্ট সময় পরপর (সাধারণত এক ঘণ্টা পরপর) আবার অবস্থার প‌রিবর্তন ঘটে। মানে য‌দি নাকের ডান ছিদ্র বে‌শি খোলা থাকে তাহলে এক‌টি নি‌র্দিষ্ট সময় পর বাম ছিদ্র বে‌শি খুলে যায়। একইসঙ্গে ডান ছিদ্রের ফাঁক কমে যায়। অবস্থার প‌রিবর্তনের সময়টায় আবার দুই ছিদ্রের ফাঁক সমান হয়ে যায়। ফলে খা‌নিকটা সময় দুই ছিদ্র দিয়েই সমান প‌রিমা‌ণে শ্বাসবায়ু ঢুক‌তে ও বের হতে পারে।

নিশ্চয়ই আপনাদের মনে প্রশ্ন উঁ‌কি দিচ্ছে, কেন এমনটা ঘটে? দুটি নাসারন্ধ্রে বায়ুপ্রবাহের তারতম্যের কারণ খুঁজে বের করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, নাকের উপরাং‌শের একটি হাড় বামে কিংবা ডানে সরে গিয়ে যখন দু‌টি ছি‌দ্রের ফাঁক নিয়ন্ত্রণ করে তখন দু‌টি নাসারন্ধ্র দিয়ে যেসব বস্তুর অণু ঢুকে পড়ে সেগু‌লোর গতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে তারতম্য বিদ্যমান থাকে।

এ‌ভাবে শ্বাসবায়ুর সঙ্গে একটি ছিদ্র দিয়ে দ্রুত গ‌তিতে ও আরেক‌টি ছিদ্র দিয়ে ধীর গ‌তিতে ‌বি‌ভিন্ন বস্তুর অণু ফুসফুসে প্রবেশ করে। আর এ কারণেই সবরকম বস্তুর গন্ধ আমরা অনুভব করতে পা‌রি।

আমাদের ঘ্রাণকোষগু‌লোকে উদ্দীপ্ত করার ক্ষমতা সব বস্তুর সমান থাকে না। ‌কিছু কিছু বস্তু খুব কম সময়ের মধ্যে আমাদের ঘ্রাণে‌ন্দ্রিয়র সঙ্গে ‌ক্রিয়া করে ঘ্রাণকোষগুলোকে উদ্দীপ্ত করার মাধ্যমে খুব দ্রুত ঘ্রাণে‌র অনুভূতি সৃ‌ষ্টি কর‌তে পারে। আবার এমন অনেক বস্তু আছে যে‌গুলো আমাদের ঘ্রাণে‌ন্দ্রিয়র সঙ্গে ধীর গ‌তিতে ‌ক্রিয়া ক‌রার পরই কেবল আমাদের ঘ্রাণকোষগু‌লোকে উদ্দীপ্ত করতে পারে বা গন্ধের অনুভূ‌তি তৈ‌রি করতে পারে। এসব বস্তু ঘ্রাণে‌ন্দ্রিয়র সঙ্গে ক্রিয়া করার জন্য পর্যাপ্ত সময় না পেলে আমরা বস্তুগুলোর গন্ধ পেতাম না।

মূলত এ কারণেই নাকের এক‌টি ছিদ্র দিয়ে বাতাস দ্রুত গ‌তিতে ফুসফুসে প্রবেশের মাধ্যমে দেহের শ্বসনপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে এবং অন্য ছিদ্র দিয়ে ধীর গ‌তিতে বাতাস প্রবেশের মাধ্যমে প‌রিপূর্ণ ঘ্রাণের অনুভূতি তৈরির সুযোগ করে দেয়।

নিয়‌ন্ত্রিত না হয়ে নাকের দু‌টি ছিদ্রের ফাঁক য‌দি সবসময় সমান থাকত তবে সব ধরনের বস্তুর অণুই সমান প‌রিমাণে ও সমান গ‌তিতে ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করত। এ‌র ফলে যেসব বস্তু ধীর গ‌তিতে গন্ধের অনুভূ‌তি তৈ‌রি করে সেগু‌লোর গন্ধ পাওয়া থেকে আমরা ব‌ঞ্চিত হতাম। ‌

কিন্তু বিস্ময়কর দেহযন্ত্র অ‌তি সূক্ষ্ম এক পদ্ধ‌তির আশ্রয় নিয়ে আমাদের কোনো বস্তুর গন্ধ পাওয়া থেকে ব‌ঞ্চিত হতে দেয় না। একে এক অপার বিস্ময় ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে!

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img