31 C
Dhaka

উত্তরার বার থেকে জব্দ মদ-বিয়ার ফেরতের নির্দেশ (ভিডিও)

প্রকাশিত:

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি কিংবা অনুমতি ছাড়া দেশের অনুমোদিত কোনো বারে পুলিশ কিংবা অন্য কোনো বাহিনী এককভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারে না। যদি তা করা হয় তবে তা আইনগতভাবে বৈধ হবে না। নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো বারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি এবং প্রতিনিধি থাকা সাপেক্ষে পুলিশ কিংবা অন্য কোনো বাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে। কিন্তু গত মাসে রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সেই নিয়ম ভেঙে অভিযান পরিচালনা করেছে।

চলতি বছরের ৭ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের গরিবে নেওয়াজ এভিনিউয়ে অবস্থিত একটি বারে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানের সময় পুলিশ ওই বারের নাম জানায় কিংফিশার। কিন্তু পরে কাগজপত্রে দেখা যায়, ওই বারের নাম লেকভিউ রেস্টুরেন্ট ও বার।

উত্তরার ওই বারে রাতভর অভিযান চালানো হলেও এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাউকেই জানায়নি পুলিশ। মহাপরিচালকের কোনো প্রতিনিধিও ছিল না অভিযান চলাকালে। শুধু তাই নয়, অভিযানের খবর পেয়ে অফিসের নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উত্তরা এলাকার পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান। তার অভিযোগ, তাকে ডিবি পুলিশ একটি রুমে আটকে রেখে অপেশাদার আচরণ করেছে।

এদিকে লেকভিউ রেস্টুরেন্ট ও বারে অভিযান চালানোর সময় জব্দ করা মদ এবং বিয়ার ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সম্প্রতি শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহমেদ। ৪১৫ বোতল মদ এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫,৯৫৭ ক্যান বিয়ার লেকভিউ রেস্টুরেন্ট ও বার কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অবশ্য ৪৩ বোতল মদ এবং ২৪৮ ক্যান বিয়ারের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে চার বছর আগে ২০১৮ সালে বার পরিচালনা করার লাইসেন্স পায় লেকভিউ রেস্টুরেন্ট ও বার। বারটির মালিকের নাম মুক্তার হোসেন। রাজধানীর গুলশান ও মিরপুরে আরও তিনটি বার আছে তার। গত ৭ অক্টোবর বারটিতে অভিযান চালানোর পর উত্তরা পশ্চিম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দাযের করেন ডিবির এসআই মো. নাসির উদ্দিন। ওই মামলায় লেকভিউ রেস্টুরেন্ট ও বারের মালিক মুক্তার হোসেন, ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেনসহ ৩৬ জনকে আসামী করা হয়। আসামী প্রত্যেকেই ওই বারের কর্মচারী।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img