18 C
Dhaka

উপজেলা চেয়ারম্যানের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

প্রকাশিত:

গ্রামের টিনের ঘর। প্রথমে একজন পুরুষ ঢোকেন। একটু পরেই দেখা যায় বয়স্ক এক নারীকে। পরের দৃশ্য বর্ণনা করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের কয়েক মিনিটের আপত্তিকর এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে অনলাইনে।

ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তার অপসারণের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেছেন এলাকার নারীরা।

বয়স্ক নারীর সঙ্গে চেয়ারম্যান সাহেবের সহবাসের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পর্নোগ্রাফি আইনে মামলাও হয়েছে থানায়। ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে দুজনকে। সবমিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুড়ে।

সম্প্রতি ভাইরাল হলেও ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল বছরখানেক আগে। চেয়ারম্যান কোথায় গিয়ে এই কর্ম করেছিলেন তা অবশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় চেয়ারম্যানের ছেলে সাইফুল ইসলাম ঠাকুর রাব্বী মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে ভাইরাল ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে অন্তরঙ্গ সঙ্গদানকারী নারীকে চেয়ারম্যানের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার নাম মরিয়ম বেগম। তিনি উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের সৈয়দ আলীর মেয়ে। মরিয়ম বেগমের সঙ্গে রফিক উদ্দিন ঠাকুরের বিয়ের নিকাহনামাও যুক্ত করা হয়েছে মামলার সঙ্গে। মামলার এজাহারে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে একান্ত মেলামেশার সময় গোপনে তার বাবার ভিডিও ধারণ করে তা প্রচার করার অভিযোগ তুলেছেন রাব্বী।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শুরুতে চেয়ারম্যান রফিক ঠাকুর দাবি করেন, ভিডিওতে এডিট করে তার মাথা বসানো হয়েছে। তিনি এর কিছুই জানেন না। এটা তার শত্রুদের কাজ। পরে সুর পাল্টান তিনি। এটা সম্পূর্ণই তার পারিবারিক বিষয়। ২০১৭ সালে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। এটি তার পরিবারের সবাই জানে।

এদিকে ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় প্রথমে থানায় জিডি করা হয়। পরে পুলিশ কুট্টাপাড়া গ্রামের মো. তরিকুল ইসলাম আপেল (৩০) ও পশ্চিম কুট্টাপাড়ার শেখ আরিফ (১৯) কে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে তাদেরকে আসামী করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, রফিক উদ্দিন ঠাকুর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকায় তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তার কিছু প্রতিপক্ষ সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পাঁয়তারা করছে। মামলার বাদী চেয়ারম্যানের ছেলে রাব্বী এজাহারে বলেন, তার বাবা ২০১৭ সালের ২ মার্চ মরিয়ম বেগমকে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক দ্বিতয়ি বিয়ে করেন। মাঝেমধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় যাওয়া-আসা করতেন। তার বাবার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে একান্ত মুহূর্তে মেলামেশার গোপন দৃশ্য গোপনে ধারণ করে রাখে এবং ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ম্যাসেঞ্জারে পোস্ট করে।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত দুজন তাদের মোবাইল ফোন থেকে আপত্তিকর ভিডিওটি প্রচার করেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img