18 C
Dhaka

কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এমপির স্বামীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর

প্রকাশিত:

সাইফুল ইসলাম তানভীর, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর ও মানিকগঞ্জ সদরের ৩ ইউনিয়ন) আসনের সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের স্বামী ডা. এএসএম মঈন হাসানের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠেছে। ভাংচুর করা হয়েছে তার ব্যবহৃত গাড়ি। হামলার ঘঁনার রহস্য উৎঘাটন ও সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নেমেছেন থানা পুলিশ।

ঘটনার পাঁচ দিন পর শনিবার (২৭ আগস্ট) ডা. এএসএম মঈন হাসান ৬ জনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হচ্ছে- সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামের মৃত জজ মিয়ার পুত্র নয়ন , মধ্য ধল্লা গ্রামের শুকুর আলীর পুত্র রুবেল , ফিরোজ মুন্সির পুত্র আশরাফুল , গাজিন্দা বড় পাড়া গ্রামের হজরত আলীর পুত্র মোসলেম উদ্দিন ও পশ্চিম বাস্তা গ্রামের আনোয়ার আলীর পুত্র পাঙ্খা জসিমসহ অজ্ঞাত ২-৩ জন। হামলাকারীদের মধ্যে আশরাফ ,নয়ন ও মুসলেম স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

মমতাজের স্বামী ডা. এএসএম মঈন হাসানের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ২৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার সার্বিক সহোযিাগিতায় পরিচালিত বাস্তা বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে রোকেয়া চক্ষু সেন্টার পরিদর্শন শেষে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বের হন তিনি। এ সময় সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা তার গাড়ির গতিরোধ করে। অটোরিকশা থেকে বেশ কয়েকজন লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে নেমে তার গাড়িতে হামলা করে ভাংচুর করে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি সাধন করে। এতে তিনিও মারাত্নকভাবে আহত হন। হামলার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন।

মমতাজ বেগম এমপির পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তার স্বামীর উপর হামলা হয়েছে বলে স্থানীয় একটি সুত্র দাবী করেছেন। সুত্রটি আরো জানায় এ দ্বন্দ্বের জের ধরে মমতাজ বেগম এমপির মালিকানাধীন জয়মন্টপের “মমতাজ চক্ষু হাসপাতালে ডা. মঈন হাসান দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্বেও গত আড়াই মাস যাবত তিনি এ হাসপাতালে আসছেন না।

হামলার সাথে জড়িত আশরাফুল ইসলাম বলেন, হামলা হয়েছে শুনেছি। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িত না। এদিকে, মমতাজ বেগম এমপি দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ প্রসঙ্গে সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শহিদ বলেন, হামলার ঘটনা দুঃখজনক । আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। এর সঙ্গে দলীয় কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার দিন পুলিশ খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক সেখানে গিয়ে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও আহত ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিতে বিলম্ব করেন বলে সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা জানান। তিনি আরো বলেন, লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার ধল্লা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে হামলার সাথে জড়িত নয়ন, আশরাফ ও মুসলেমসহ কয়েক জনের নামের প্রমান পাওয়া গেছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে এখানো হামলার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img