31 C
Dhaka

কন্ঠশিল্পী এমপি মমতাজের এলাকায় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ভয়াবহ ফল বিপর্যয়

আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রভাব পড়ার আশংকা, নেতাকর্মীদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

প্রকাশিত:

সাইফুল ইসলাম তানভীর, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জে আওয়ামীলীগের ভোটের ফলাফল ভয়াবহ বিপর্যয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে চরম উত্তেজনা ও পরস্পর বিরোধী বক্তব্য।

প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে দেখা যায়, অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিনের বড় বিপর্যয় ঘটেছে এমপি মমতাজের সিংগাইর উপজেলায়। সেখানে আ.লীগ প্রার্থী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৩৮ ভোট। অপরদিকে, চশমা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ১১৭ ভোট। গত জেলা পরিষদ নির্বাচনেও সিংগাইর উপজেলায় আ.লীগ প্রার্থীর পরাজয় ঘটেছিল।

এ বছর মানিকগঞ্জ-১ আসনে বেশী ভোট পেয়ে অল্পের জন্য পরাজয় থেকে রক্ষা পেল আওয়ামীলীগ প্রার্থী। সিংগাইর উপজেলার ভোটের ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে এমপি মমতাজ তার ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট দেন “সাপ পালছিলাম দুধ দিয়া” পুরো জেলার চুড়ান্ত ফলাফলে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর “ আলহামদুলিল্লাহ বেঈমানদের মুখে ঝাড়ুর বারি” লিখে আরেকটি পোষ্ট দেন তিনি। তার এ পোষ্টে দলীয় নেতাকর্মীরা পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করেন।

আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন মোট ৮৮৯ ভোটের মধ্যে পেয়েছেন ৪৫২ ভোট। তার নিকটতম একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যাডভোকেট কেএম বজলুল হক খান রিপন চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৪২৫ ভোট। মাত্র ২৭ ভোট বেশী পেয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জয়লাভ করেন।

কন্ঠশিল্পী এমপি মমতাজের এলাকায় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ভয়াবহ ফল বিপর্যয়
কন্ঠশিল্পী এমপি মমতাজের এলাকায় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ভয়াবহ ফল বিপর্যয়

ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের ৭ টি উপজেলায় ৩ টি সংসদীয় আসনে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর,দৌলতপুর,শিবালয়) আসনের এমপি এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের এলাকায় আ.লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ১৮৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছে ১০৪ ভোট। মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদরের আংশিক) আসনের এমপি কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের এলাকায় আ.লীগ প্রার্থী ১৩৩ ভোট,স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৯০ ভোট এবং মানিকগঞ্জ-৩ (মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া) আসনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন এমপির এলাকায় আ.লীগ প্রার্থী ১৩১, স্বতন্ত্র প্রার্থীও পেয়েছেন ১৩১ ভোট ।

এদিকে, নির্বাচনের দিন সিংগাইর ভোট কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর বিপর্যয়ের আশংকায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান শহিদের সঙ্গে কতিপয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে বাক-বিতন্ডা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের সামনেই ৩ চেয়ারম্যানকে অপদস্ত করেন শহিদ অনুসারীরা। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন সন্ধ্যায় এ ঘটনার প্রতিবাদে নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা সদরে মহড়া দেন পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস ছালাম খান। পরে পৌর মেয়র আবু নাঈম মো. বাশারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গত ১৯ অক্টোবর বিকেলে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শেখ রাসেলের জন্মদিনের আলোচনা সভায় আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শহিদ তার বক্তব্যে ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও কতিপয় নেতাকর্মীদের কড়া হুশিয়ারি দেন।

সিংগাইর পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুস ছালাম খান বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের অসম্মান ও সম্মানিত ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সিংগাইরে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ভোটের ফলাফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানদের বাইরে সাবেক আওয়ামীলীগ নেতাদের একটি বলয় চশমা প্রতীকের পক্ষ নিয়ে মেম্বার ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলি-বন্টন করেছেন। এখানে চেয়ারম্যানদের দোষারোপের অবকাশ নেই। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সৌদি আরবে অবন্থান করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ১৮ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত দলীয় কার্যালয়ে শেখ রাসেলের জন্মদিনের আলোচনা সভায়ও বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মহিউদ্দিন অভিযোগ তুলেন দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে তাকে মাত্র ২৭ ভোটে জয়ী হতে হয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো দলের সাপোর্ট ছাড়া কোন অপশক্তির ওপর ভর করে ৪২৫ ভোট পেলেন এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের নেতাদের দায়ী করেন। এ নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠলে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে দলের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ ফটো ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম আপেলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন আওয়ামীলীগের দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ পেয়েছে এ জেলা পরিষদ নির্বাচনে। জেলা ও উপজেলা কমিটিতে ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মুল্যায়ন না করলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে মানিকগঞ্জের ৩টি আসনে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img