23 C
Dhaka

করোনা থেকে দূরে থাকার কার্যকর কিছু উপায়

প্রকাশিত:

দেশে হঠাৎ করেই করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেছে। গত কযেকদিন ধরে ক্রমাগত বাড়ছে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ও হার। এ অবস্থায় মাস্ক পরা, ঘন ঘন সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত স্যানিটাইজ করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ কঠোরভাবে সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

ভাইরাস হলো এক ধরনের প্রোটিনযুক্ত অণুজীব যা জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এমনকি ভয়ংকর প্রাণঘাতী রোগও তৈরি করতে পারে। এক‌বিংশ শতাব্দীতে ভয়াবহ মহামা‌রি কোভিড-১৯ নিয়ে আ‌বির্ভূত হয়েছে নভেল করোনাভাইরাস।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম চিহ্নিত হওয়ার পর করোনাভাইরাসজনিত রোগ ২০১৯ বা কোভিড-১৯ কে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করা হয় ২০২০ সালের মার্চে। সেই থেকে সারা পৃথিবীতে তান্ডব চা‌লিয়ে যাচ্ছে অদৃশ্য ও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। ঘন ঘন ধরন পাল্টে ‌বিশ্বের বি‌ভিন্ন দেশে ভয়ংকর রূপে আ‌বির্ভূত হচ্ছে এ‌টি। এখন পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই ভাইরাস, আক্রান্ত করেছে কো‌টি কোটি মানুষকে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মাস্ক প‌রিধান, ঘন ঘন সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়াসহ সকল স্বাস্থ্যবি‌ধি মেনে চলার পাশাপা‌শি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো খুব জরুরি। এজন্য প্রতি‌দিন বেশি পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে যা শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে। প্রধান অ্যান্টি অক্সিডেন্টের মধ্যে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, ই, লাইকোপেন, লুটেইন সেলেনিয়াম ইত্যাদি। অপর্যাপ্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যে খাবারগুলো বেশি খেতে হবে:

বিটা ক্যারোটিন: উজ্জ্বল রংয়ের ফল, সবজি। যেমন- গাজর, করলা, পালংশাক, আম, ডাল ইত্যাদি।

ভিটামিন এ: গাজর, পালংশাক, মিষ্টি আলু, মিষ্টিকুমড়া, জাম্বুরা, ডিম, কলিজা, দুধজাতীয় খাবার।

ভিটামিন ই: কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, বাদাম তেল, বিচিজাতীয় ও ভেজিটেবল অয়েল, জলপাইয়ের আচার, সবুজ শাকসবজি।

ভিটামিন সি: আমলকী, লেবু, কমলা, সবুজ মরিচ, করলা ইত্যাদি।

অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সবচেয়ে ভালো উৎস উদ্ভিজ্জ খাবার। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বেগুনি, নীল, কমলা ও হলুদ রংয়ের শাকসবজি ও ফল বে‌শি খেতে হবে।

সবজি: ফুলকপি, বেগুনী/লাল পাতার কপি, বিট, ব্রোকলি, টমেটো, মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম।

শাক: যেকোনো ধরনের ও রঙের শাক।

ফল: কমলালেবু, পেঁপে, আঙুর, আনার, তরমুজ, স্ট্রবেরি, জলপাই, আনারস।

মসলা: আদা, রসুন, হলুদ, দারুচিনি, গোলমরিচ।

বিচিজাতীয় খাবার: শিম বিচি, মটরশুঁটি, বার্লি, ওটস, বাদাম।

টক দই: এটি শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে।

অন্যদিকে শাকসবজি, ফল, বাদামজাতীয় খাবার নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

চা: গ্রিন টি, লাল চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

ভিটামিন বি-৬, জিংক (বিচি জাতীয়, বাদাম, সামুদ্রিক খাবার, দুধ ইত্যাদি) শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির কোষ বৃদ্ধি করে।

উচ্চ মানের আমিষজাতীয় খাবার (ডিম, মুরগির মাংস ইত্যাদি) বেশি করে খেতে হবে।

সূর্যালোক করোনার ঝুঁ‌কি কমাতে সাহায্য ক‌রে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা‌ড়িয়ে ভয়ংকর করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ভিটা‌মিন ডি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তে ও টিস্যুতে অক্সিজেন প্রবাহের পরিমাণ এবং শ্বেত কণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি ক‌রে। ফিটনেস ধরে রাখতে এবং পেশি গঠনেও সাহায্য করে এ‌টি। শিশুদের নিয়মিত সূর্যের আলোতে নিলে তাদের বৃদ্ধি ভালো হয়। দেহের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব সূর্যালোক থেকে। বাকী ২০ শতাংশের মতো পাওয়া যায় খাদ্যে।

চর্বিযুক্ত মাছে ভিটামিন ডি থাকে। শুধু ভিটা‌মিন ডি এর উৎসই নয়, মাছের তেল মানুষের শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। মাগুর, ম্যাকারল বা স্যামন মাছে বে‌শি প‌রিমাণে ভিটা‌মিন ডি থাকে। এছাড়া ক‌লিজা, পনির, সয়া সস, কমলার জুস, ডিম, মাশরুম, আলমন্ড, কড লিভার তেল ইত্যাদিতেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

কেবল শীতকাল নয়, সব ঋতুতেই কিছুক্ষণ (পাঁচ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত দুবার) রোদে বসার অভ্যাস করতে পারলে উপকৃত হওয়া যায়। আবার কারও কারও মতে, প্রতিদিন কিংবা সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ৩০ মিনিট করে রোদ পোহানো জরুরি। এ সময় শরীরের কমপক্ষে ১৮ শতাংশে রোদ লাগতে দিতে হবে। দুপুরের কাছাকাছি সময়, মানে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত রোদে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত সময়। এই সময় সূর্যের যে আলো আসে সেটি ভালো। গ্রীষ্মকালে মানে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস রোদ থেকে ভিটামিন ডি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img