27 C
Dhaka

খাটের উপর ফেলে কিশোরী নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত:

খাটের উপর ফেলে কিশোরীকে অমানবিক নির্যাতন করছেন এক ইউপি সদস্য- এমন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ইউপি সদস্যের বিচারের দাবি উঠেছে।

অভিযুক্ত কালিয়াকৈরের ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম ওই কিশোরীকে বেধড়ক পেটানোর পর জোর করে এক তরুণের সঙ্গে বিয়েও দিয়েছেন। এরপর আরও বিপাকে পড়েছে কিশোরীর পরিবার।

গারো সম্প্রদায়ের ওই কিশোরী স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাকে পেটানোর ভিডিওটি এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই শিশু, শিশুটির মা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৬ মে বিকেলে প্রতিবেশী এক তরুণ কিশোরীটির বাড়িতে আসে। সে সময় কিশোরীর মা বাড়িতেই ছিলেন। ওই তরুণের সঙ্গে কিশোরীটির সম্পর্ক মামা-ভাগনির। ওই তরুণ কিশোরীর বাড়িতে থাকা অবস্থাতেই ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর সেখানে লোকজন নিয়ে আসেন। এসেই তিনি কিশোরীকে মারধর শুরু করেন। ওই তরুণের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিতে বাধ্য করেন। জানান, পরে বিয়ে নিবন্ধন করা হবে।

শিশুটির বাবা একজন দিনমজুর। তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। দুই দিন আমার মেয়ের সঙ্গে থাকার পর ওই ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমার মেয়ে নাবালিকা। বিয়ের কাগজপত্রের জন্য মেম্বারের (জাহাঙ্গীর আলম) কাছে কয়েকবার আমার বউকে পাঠিয়েছি। সেটাও পাইনি।

এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেছেন জানিয়ে অসহায় এই বাবা আরও বলেন, আমরা গরীব মানুষ। একদিন কাজ না করলে ভাত জোটে না। এ অবস্থায় কার বিরুদ্ধে কথা বলবো? কার বিচার চাইবো? সেই সাহস আমাদের নেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ঘরে খাটের ওপর বসে থাকা কিশোরীকে চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক পেটাচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, এসব কাজ কবে থেকে শুরু করেছিস? আর করবি?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বলেন, অভিযোগ প্রদানের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি।

এদিকে কিশোরীকে মারধরের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। এ সংক্রান্ত ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় আফসোস করে তিনি বলেন, কে কখন ভিডিও করেছে বুঝতে পারিনি। আমি একটি ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি দেখেছি। নিউজ করলে বুঝে করেন।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img