28 C
Dhaka

ঘাতক চক্রের লক্ষ্য ছিল দেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা : রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত:

আজ শোকাবহ ২১ আগস্ট। দেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের এক ভয়াল দিন। দিনটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, আজ শোকাবহ ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এদিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জনসভায় বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় শহীদ হন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী। আমি সব শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।

লাখো শহীদের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের মহান স্বাধীনতা। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আটন্নর সামরিক শাসনবিরোধ আন্দোলন, ছেষট্টির ৬ দফা, ঊনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তুরের নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে শাসকের বুলেটের আঘাতে।

স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উপর প্রথম আঘাত আসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। সেদিন স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক চক্রের হাতে অকালে জীবন দিতে হয় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয় দেশের জাতীয় চার নেতাকে। তাপরও ঘাতক চক্র থেমে থাকেনি। তারা (ঘাতকচক্র) পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জনসভা চলার সময় ইতিহাসের বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালায়।

আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে যান, প্রাণ হারান দলের (আওয়ামী লীগ) ২৪ জন নেতাকর্মী। আহত হন আরও অনেকে। এই হামলায় বেঁচে থাকা অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। আজও (তারা) দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

ঘাতক চক্রের লক্ষ্য ছিলো আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রুখে দেওয়া। দেশে স্বৈরশাসন এবং জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা হতে দেয়নি।

গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহমর্মিতার সঙ্গে পরমতসহিষ্ণুতা অপরিহার্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সব রাজনৈতিক দল মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা করবে, সব ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখবে। 

আমি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি। জয় বাংলা, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img