18 C
Dhaka

ঘুরে আসুন হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মাংসভোজী ‘গায়েবী গজার মাছের পুকুর’

প্রকাশিত:

সিলেট শাহ জালাল মাজারের মতোই বিশাল বিশাল গজার মাছ রয়েছে হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গায়েবী গজার মাছের পুকুরে। কথিত আছে, পুকুরটিতে নাকি গজার মাছ রূপে বন্দী হয়ে আছে জিন-পরীরা।

অবিশ্বাস্য শোনালেও, গায়েবী গজার মাছের পুকুরে বিশালাকৃতির ভয়ঙ্করদর্শন মাছগুলো মাংসভোজী। গজার মাছগুলো ছোট ছোট মাছ এবং মাংস ছাড়া অন্য কিছু দিলে ছুঁয়েও দেখে না।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের উপকণ্ঠে দাউদনগর গ্রামে অবস্থিত এই পুকুর দেখতে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভিড় জমান। চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন দেশের ঐতহ্যিবাহী স্থানটি।

সপ্তাহের প্রতিদিনই প্রচুর মানুষ আসেন গজার মাছ দেখতে। তবে শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। দর্শনার্থীরা গজার মাছের খাবার হিসেবে ছোট মাছ কিংবা মাংস নিয়ে আসেন। গজার মাছগুলো ছোট মাছ ও মাংস ছাড়া আর কিছু দিলে খায় না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই পুকুরের পানি নিয়ত করে পান করলে অসুখ-বিসুখ ও বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

দাউদনগর গ্রামের দক্ষিণ অংশে ছাওয়াল পীরের মাজার অবস্থিত। মাজার সংলগ্ন গায়েবী গজার মাছের পুকুর মাছের ঘাট নামেও পরিচিত স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে। ঐতিহ্যবাহী গায়েবী গজার মাছের পুকুর নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।

প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, বেশ কয়েকশো বছর আগে ৩৬০ জন আউলিয়ার সফর সঙ্গী ছিলেন বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিবুল্লা (রঃ)। তিনি সৈয়দ নাছির উদ্দিন (রঃ) এর বংশধর।

বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিবুল্লা (রঃ) তৎকালীন সময়ে দাউদনগর গ্রামের বড় হাবেলীর বড়বাড়িতে বাস করতেন। তিনি ইবাদত বন্দেগী করতেন পুকুরপাড়ের ছোট ঘরে। ওই সময়ে তার ইবাদতখানার পাশে ছোট একটি ডোবা ছিল।

বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিবুল্লা (রঃ) যখন ইবাদতে মশগুল থাকতেন তখন তার মাথার ওপর দিয়ে জিন, পরী যাতায়াত করতো আর তার মুরিদ হতে চাইতো।

বন্দেগী শাহ সৈয়দ মহিবুল্লা (রঃ) জিন-পরীদের উদ্দেশ্য করে বলতেন, তোমরা মুরিদ হতে পারো। তবে শর্ত হলো, তোমাদেরকে মাছের রূপ ধারণ করতে হবে।

জিন-পরীরা তখন বন্দেগী শাহকে জিজ্ঞেস করে, মাছ হলে খাওয়াবে কে? জবাবে বন্দেগী শাহ বলেন, মানুষ তোমাদের খাওয়াবে। এরপর বন্দেগী শাহ জিন-পরীদের বন্দি করে গজার মাছ রূপে ছোট ডোবায় ছেড়ে দেন। সেই থেকে সেখানেই গজার মাছ রূপে বন্দী হয়ে আছে জিন-পরীরা।

প্রচলিত আছে, গজার মাছের ছোট ডোবাকে বড় করে দেওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখেন পাশের বিরামচর গ্রামের হিন্দু জমিদার কাশীচন্দ্র বিশ্বাস। পরে তার ছেলে ও বংশধররা নিজেদের খরচে ছোট ডোবাটি খনন করে বড় পুকুরে পরিণত করেন। সেটিই গায়েবী গজার মাছের পুকুর নামে পরিচিত।

প্রায় ৩৫ বছর আগে ১৯৮৮ সালে দেশজুড়ে ভয়বহ বন্যায় গজার মাছের পুকুর তলিয়ে যায়। সেসময় কয়েকটি গজার মাছ পুকুর থেকে ভেসে যায়। জীবন্ত অবস্থায় জেলেদের জালে ধরা পড়লে জেলেরা মাছগুলো আবার মাজারের খাদেমের কাছে দিয়ে দেন। গায়েবী গজার মাছ কোনো কারণে মারা গেলে মাছগুলোকে পুকুরপাড়েই কবর দেওয়া হয়।

১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর কে বা কারা পুকুরটিতে বিষ ঢেলে গজার মাছ হত্যার চেষ্টা করে। তবে তারা সফল হতে পারেনি। বিষ ঢালার পর কয়েকদিন গজার মাছ দেখা না গেলেও পরে আবার দেখা যায়।

২০০৭ সালে পুকুরটির পুনঃখনন ও সংস্কার কাজ করা হয়। পরের বছর লাখ চারেক টাকা খরচা করে পুকুরের চারদিকে সীানা প্রাচীর ও ঘাট তৈরি করে দেয় শায়েস্তাগঞ্জ পৌর পরিষদ।

বছর চারেক আগে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে আবার পুকুরটিতে কে বা কারা বিষ ঢেলে দেয়। এতে করে একের পর এক গজার মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। এমনটা চলে টানা সাত দিন। সেচের মাধ্যমে পুকুরের বিষাক্ত পানি বের করে দিয়ে ভালো পানি দেওয়ার সাতদিনের মধ্যেই পুকুরটিতে আবার গজার মাছের আনাগোনা দেখা যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img