27 C
Dhaka

চকরিয়ায় রিজার্ভ বনভূমিতে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ

প্রকাশিত:

চকরিয়া সুন্দর বনের প্যারাবন কেটে ৭০০ একরের চিংড়ি ঘের দখলের পর এবার ফাসিয়াখালী রেঞ্জের অধীন মালুমঘাট স্টেশনের উত্তরে মেমোরিয়াল খ্রীষ্টান হাসপাতাল লাগোয়া এলাকায় এবার সরকারি রিজার্ভ বনভূমি জবর দখল করে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে চিরিংগা ইউপি চেয়ারম্যান জামাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

দখলে জড়িত থাকার বিষয়টি কৌশলে ধামাচাপা দেয়ার জন্য অভিযুক্ত একটি চক্র কতিপয় দখলদার মালিকদের কাছে স্ট্যাম্পমূলে কাগজ নিয়ে রীতিমত বনভূমিতে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছে। গেল পক্ষকাল সময়ধরে বনবিভাগের রির্জাভ জমিতে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল হোছাইন চৌধুরী মালুমঘাট স্টেশনের উত্তরে বনবিভাগের রির্জাভ বনভূমিতে একটি বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করছেন। তার বিরোদ্ধে ইতিপুর্বেও চকরিয়া সুন্দরবনের প্যারাবন কেটে ৭০০ একরের চিংড়ি ঘের তৈরী করার কারণে ৩টি মামলাও রয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জামাল চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মালুমঘাটের বনজায়গীরদার রফিক উদ্দিন ও মো.জাহাংগীর আলম বলেন, তারা বনবিভাগের ভিলেজার অংশীদার হিসেবে বেশ কয়েক বছর আগে মালুমঘাট স্টেশনের উত্তরে বেশ কিছু রিজার্ভ বনভূমি (ভিলেজারী প্রথায়) ভোগদখলে থেকে রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। এত বছর তারা ওই জায়গা ভোগদখলে রাখলেও সেখানে স্থায়ী কোন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করেননি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ওই রিজার্ভ বনভূমির সেই জায়গাটি কতিপয় মহলের চক্রান্তে বেদখল হয়ে গেছে।

রফিক উদ্দিন ও জাহাংগীর আলমের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন অবৈধ দখলদার বনবিভাগের রিজার্ভ জায়গার বেশকিছু অংশ কৌশলে চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল চৌধুরীকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান জামাল চৌধুরী অবৈধ দখলদার থেকে কেনা বনভূমির পাশাপাশি আমাদের ভোগদলীয় ভিলেজারি জায়গাও দখলে নিয়েছেন। এখন সেখানে তিনি ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক মার্কেটও (ইট-পাথরে পাকা বিল্ডিং) নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি স্থানীয় বনবিভাগকে জানালেও বনবিভাগের রিজার্ভ জায়গায় স্থায়ী অবকাঠামো তথা বিল্ডিং ভবন নির্মাণকাজে কোন ধরনের বাধা দেো হয়নি। এমনকি এ ব্যাপারে প্রশাসনিক উদ্যোগও নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় লোকজন।

কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সরকারের কাছে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়ার উপজেলার ফাসিয়াখালী বিট কাম রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান বলেন, আমি এই রেঞ্জে যোগদানের অনেক আগে থেকে মালুমঘাট স্টেশনের উত্তরে ওই এলাকায় অনেক দোকানপাট গড়ে উঠেছে। সেখানে ভিলেজারি বনভূমিতে নতুন করে দোকানপাট নির্মাণ করছে- এ ধরনের বিষয় আমাকে কেউ জানায়নি। তবু আপনার কাছ থেকে বিষয়টি যখন জানলাম তখন অবশ্যই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img