32 C
Dhaka

চাঁদপুরে পন্টুন ছাড়াই এক ডজন লঞ্চঘাট

প্রকাশিত:

নদীবেষ্টিত চাঁদপুর সদর, মতলব ও হাইমচরে গত দুই যুগে প্রায় এক ডজন স্থায়ী ও ভাসমান লঞ্চঘাট গড়ে উঠেছে। এসব ঘাটের অধিকাংশের নেই বিআইডব্লিউটিএ-এর কোনো অনুমোদন। যে কয়টির অনুমোদন আছে, সেগুলোর ইজারা ডাকা হয়; কিন্তু যাত্রীসেবার ন্যূনতম সুবিধা নেই বললেই চলে।

তারপরও চলাচলের সুবিধায় যাত্রীরা ঘাটগুলো দিয়েই বিভিন্ন লঞ্চে যাতায়াত করছে। চাঁদপুর সদরের কানুদী, আমিরাবাদ, মতলবের এখলাসপুর, মোহনপুর, ষাটনল, বেলতলী, হাইমচরের কাটাখালী, হাইমচর, নীলকমল ও চরভৈরবী লঞ্চঘাটে প্রতিদিন ছোট-বড় প্রায় ১৫টি লঞ্চ ভিড়ছে।

এসব ঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চাঁদপুর যাতায়াত করে। অথচ একটি লঞ্চঘাটেও নেই কোনো পন্টুন। যাত্রীদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কোনো যাত্রীছাউনি এবং টয়লেটেরও ব্যবস্থা নেই। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় যাত্রীদের লঞ্চে ওঠানামা করতে হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই।

সরেজমিনে কয়েকটি লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা যায়, লঞ্চ থেকে সরু কাঠের গ্যাংওয়ের ওপর দিয়ে যাত্রীরা নদীর তীরে আসা-যাওয়া করছে। যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় চাঁদপুর সদরের কানুদী, আমিরাবাদ, মতলবের এখলাশপুর ও হাইমচর অঞ্চলের ভাসমান ঘাটগুলোয়।

সেখানে লঞ্চে উঠতে এবং নামতে যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্ট হয়। বর্ষা মৌসুমে মতলব ও হাইমচরে ঘাটগুলোয় মেঘনার প্রতিরক্ষা বাঁধের সঙ্গে নোঙর করে লঞ্চ ভেড়াতে হয়। তখন একদিকে যেমন তীররক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে যাত্রীদের পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হলেও পন্টুন করার উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় লঞ্চ থেকে নামতে পানিতেও পড়ার ঘটনা ঘটে বলে তারা জানান।

হাইমচরের চরাঞ্চলের আসমা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা বলেন, অনেক কষ্টে লঞ্চ থেকে নেমেছি। চরভৈরবী ঘাটে নামতে গিয়ে এত কষ্ট পেয়েছি যে, তা ভুলতে পারব না।

কানুদী লঞ্চঘাটের যাত্রী মরিয়ম অক্তার (২৩) বলেন, বর্ষায় এ ঘাট দিয়ে লঞ্চে উঠতে যতটুকু অসুবিধা হয়, এর চেয়ে শুকনা মৌসুমে বেশি অসুবিধা হয় পানি শুকিয়ে যাওয়ায়। অনেক দূর হেঁটে বহুকষ্টে বাচ্চা কোলে করে লঞ্চে উঠতে ও নামতে হয় তখন। কয়েকটি লঞ্চের সুপারভাইজার জানান, পন্টুন ও যাত্রীছাউনির জন্য তারা লঞ্চমালিকসহ অনেকবারই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কিন্তু কিছুই করা হয়নি। পন্টুন না থাকায় হাইমচরের লঞ্চঘাট থেকে যাত্রী ওঠানামা করতে গিয়ে যে কোনো মুহূর্তেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা-এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ-এর উপপরিচালক একেএম কায়সারুল ইসলাম বলেন, আসলে হাইমচর নদীভাঙনকবলিত এলাকা। তাছাড়া অন্য ঘাটগুলো স্থানীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নদীভাঙন বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওইসব এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ পন্টুন নির্মাণের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। তারপরও দ্রুতই ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা দেখে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img