28 C
Dhaka

চাকরির সন্ধানে শেরপুর থেকে ফতুল্লায় এসে যুবক খুন

প্রকাশিত:

দরিদ্র পরিবারের সন্তান সাইফুল ইসলাম (২৩)। চাকরির আশায় ভগ্নিপতির মুন্সীগঞ্জের বাড়িতে আসার জন্য শনিবার রাতে শেরপুর থেকে বাসে চড়েন। রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটিতে এসে নামেন। বাস থেকে নেমে ভগ্নিপতি সফিকুল ইসলামকে ফোন করেন।

সফিকুল তাকে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরগামী অটোতে উঠতে বলেন। আধাঘণ্টা পরেই সাইফুলের মোবাইল ফোন থেকে পুলিশ সফিকুলকে ফোন করে জানায় যে, সাইফুল খুন হয়েছে। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে এসে সফিকুল সাইফুলের মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি।

রোববার ভোরে ফতুল্লার পঞ্চবটির মেথরখোলা এলাকা থেকে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় সাইফুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সাইফুল ইসলাম শেরপুর সদর থানার গাজির খামার গ্রামের মোতালেব হুসাইনের ছেলে। তবে সাইফুলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা নিয়ে খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাই সন্দিহান। কারণ নিহত সাইফুলের কোনো কিছুই খোয়া যায়নি। সঙ্গে থাকা কাপড়ের ব্যাগে তার মোবাইল ফোনসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল।

নিহতের ভগ্নিপতি সফিকুল ইসলাম বলেন, সাইফুল বেকার ছিল। তাই তাকে মুন্সীগঞ্জে আমার বাসায় আসতে বলি। আমি যে সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজ করি সেখানে তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম।

এজন্য শনিবার রাতে শেরপুর থেকে বাসে করে রোববার ভোর ৪টায় ফতুল্লার পঞ্চবটি এসে নামেন। এখান থেকে মুন্সীগঞ্জে আসার জন্য আমাকে ফোন করে। তখন তাকে বলছি মুক্তারপুরের অটোরিকশায় উঠতে। তার কিছুক্ষণ পর পুলিশ সংবাদ দেয় সাইফুলকে হত্যা করা হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শেখ রিজাউল হক বলেন, সাইফুলের বাম বাহু ও পায়ে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ছিনতাই হলে ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নিত। কিন্তু তা হয়নি।

তার বাম হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু ছিনতাইকারীরা সাধারণত হাত, বুক, পাজর, মুখমণ্ডল, পেট ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে থাকে। এক্ষেত্রে সে রকম কিছু হয়নি। তাই কীভাবে তার মৃত্যু হলো বা কারা কী কারণে এটি ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা এ ঘটনায় হত্যা মামলাই গ্রহণ করেছি। তার ভগ্নিপতি সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img