26 C
Dhaka

জলঢাকায় পোস্ট অফিসের জমি দখল

প্রকাশিত:

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকায় পোস্ট অফিসের জমি দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ত্রিমুখী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ডাউয়াবারী ইউনিয়নের জলঢাকা কৈমারী সড়কের পাশে নেকবক্ত বাজারের অটোস্ট্যান্ড সংলগ্ন পোষ্ট অফিস, নেকবক্ত শাখার পোস্ট কোড নং ৫৩৩০।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এস.এ খতিয়ান অনুযায়ী ডাউয়াবারী ইউনিয়নের নেকবক্ত পোস্ট অফিসের জন্য ৩২ শতক জমি দান করেন পাশ্ববর্তী ডিমলা উপজেলার ডিপপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রী হীরম্ব বর্মনের স্ত্রী মিনা রানী রায়।

পোস্ট অফিসের নামে দান করা জমির বিষয়ে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সুধাংশু কুমার রায় প্রেরিত একটি খাজনা পরিপত্রনুয়ায়ী জানা যায়, ওই ইউনিয়নের নেকবক্ত মৌজা ও জে.এল.নং-৭০, ২ নং রেজিষ্টার অনুযায়ী হোল্ডিং নম্বর-৩, খতিয়ান নং-৩ এবং ৫৩৬৬ দাগ নাম্বারে ৩২ শতক জমি পোস্টাল বিভাগের মালিকানাধীন নেকবক্ত পোস্ট অফিস। উক্ত ৩২ শতক জমির মধ্যে ৩ শতক জমিতে পোস্ট অফিসটির ভবন নির্মানাধীন রয়েছে এবং বাকী ২৮ শতক জমির মধ্যে ১০/১২ শতক জমিতে একটি পুকুর রয়েছে ও ১৭ শতক জমি নেকবক্ত বাজারের মেইন রোড সংলগ্ন।

এদিকে দীর্ঘদিন পোস্ট অফিসের জায়গাটি খালি পড়ে থাকার কারণে ২০/২২ বছর পূর্বে রাস্তা সংলগ্ন জায়গাটি দখল করে মাটি ভরাট করে জয়া ট্রেডার্স স্যানেটিশন নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। তখন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ওই জায়গায় ব্যবসা কার্যক্রম চলে আসছে।

এদিকে ডাউয়াবারী ইউনিয়ন পোষ্ট অফিসের কর্মকর্তা ছালেক চৌধুরীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিভিন্ন অভিযোগ করেন এ প্রতিবেদকের কাছে । ও-ই কর্মকর্তা দোকানের মালিকের নিকট জামানত বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন এবং পোষ্ট অফিসের ওই জায়গা নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবী করে বিভিন্ন সময় অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ ঘটনায় স্যানিটেশন দোকান মালিক আজহারুল ইসলাম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করলে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরারব লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।

অভিযোগ উঠেছে শুধু আজহারুল ইসলামেই নয় বাজার সংলগ্ন আব্দুল গনীর পুত্র দরিদ্র জোনাব আলীর নিকট হতে জামানত বাবদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে একটি পুরাতন কাপড়ের দোকান বসিয়ে দেন পোষ্ট কর্মকর্তা ছালেক চৌধুরী। তিনি সেই পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ীর নিকট হতে প্রতিমাসে ভাড়া দাবী করছেন।খাস জায়গা হওয়ার ভাড়া প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে তার দোকান ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নিজের ক্ষমতা বলয়ে পোষ্ট কর্মকর্তা ছালেক চৌধুরী তার ছেলে মাহামুদুল হোসাঈন সিহাবকে দিয়ে নিজেই একটি বড় মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করে ব্যাবসা সহ ওই মুদি দোকানে সরকারী ভাবে পোস্ট অফিসের কাজের জন্য বরাদ্দকৃত কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যাবহার ও ব্যবসা করছেন। এছাড়া তিনি মাংসের দোকান, কাঠ ব্যবসায়ী বাবুল মেম্বারসহ শাক ব্যবসায়ী একরামুল, টন্ডু, মিজানুর ও পান ব্যবসায়ী আলতাব হোসেনের নিকট হতে প্রতি মাসে মাসিক ভাড়া আদায় কররন যার পরিমান প্রায় ৪ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে পোষ্ট অফিসের কর্মকর্তা ছালেক চৌধুরী বলেন যে, তার পৈতৃক সম্পত্তি পোষ্ট অফিসের জাগয়া। এ জন্য তিনি মাসে মাসে ভাড়া তুলেন সব দোকান থেকে।

এদিকে পোষ্টকর্তা ছালেক চৌধুরী’র এমন কর্মকান্ডে ওই জায়গায় বর্তমানে তিনটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পোষ্ট কর্মকর্তা পৈত্রিক সূত্রে দাবীদার ও অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের তৎপরতা এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সুবিধা বঞ্চিত একটি পক্ষ। এই তিন পক্ষের মধ্যে বর্তমানে ত্রিমুখী সংঘর্ষের আশংখা করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে অত্র বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসন সহ জেলা পোষ্ট অফিসের সার্বিক সহায়তা কামনা করেছেন যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়ে পোষ্ট অফিসের সরকারী জায়গা নিয়ন্ত্রণে রাখে পোষ্ট অফিস।

এ বিষয়ে নেকবক্ত পোষ্ট অফিসের কর্মকর্তা অভিযুক্ত ছালেক চৌধুরী বলেন, আমার পৈতৃক সূত্রে দানকৃত জায়গা এই পোষ্ট অফিস। এখানে আমি কর্মকর্তা হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছি। সরকারী জায়গায় দোকান বসিয়ে ভাড়া তুলছেন এমন প্রশ্নে ছালেক চৌধুরী বলেন, ভাড়া সরকারের খ্যাতে জমা করেছি। দোকানঘর ভাংচুর করেছি আমার বিরুদ্ধে এ সব মিথ্যা অভিযোগ।

এ বিষয়ে জেলা পোষ্ট কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, পোষ্ট অফিসের জায়গা এটি। ছালেক চৌধুরী পৈতৃক সম্পত্তি হবে কেন? দাতা সদস্য হতে পারেন, তাই বলে জমির দাবী তিনি করতে পারেন না।

বর্তমানে জমি নিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে এমন প্রশ্নে জেলা পোষ্টকর্তা বলেন, যেহেতু পোষ্ট অফিসের ওই সরকারী জমি নিয়ে ত্রিমুখী বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পোষ্ট অফিসের সরকারী জায়গা খালি করে পোষ্ট অফিসের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। ওখানে কেউ কোনরুপ ব্যবসা করতে পারবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। সময় স্বল্পতার জন্য দেখার সুযোগ হয়নি। বিষয়টি যেহেতু পোষ্ট অফিসের সেহেতু জেলা পোষ্ট বিভাগ যদি কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সেখানে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img