31 C
Dhaka

‘জীবন ঝুঁকিতে এরিক’, ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকাশিত:

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পুত্র শাহাতা জারাব এরশাদ এরিকের জীবন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরিক এখন প্রেসিডেন্ট পার্কে তার মা বিদিশার কছে বন্দি রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ট্রাস্ট্রের পরিচালকরা এরিকের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে ও কথা বলতে পারছেন না। কয়েকদিন আগে এরিক তার মা বিদিশার হাত থেকে বাঁচার জন্য এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদকে ফোন করেন। সেই কথোপকথনের অডিওটিতে এরিককে বলতে শোনা গেছে, ‘আমাকে বাাঁচান। ওনাকে (বিদিশাকে) এখান থেকে না সরালে আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নেব।’

এতে এরশাদ ট্রাস্টের পরিচলনা বোর্ডের কর্মকর্তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে এরিকের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দারস্থ হয়েছেন তারা।

এ পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আজ বুধবার (১৬ নভেম্বর) এরিকের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করেছেন এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ।

আবেদনে বলা হয়, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবদ্দশায় ওনার সন্তান শাহাতা জারাব এরশাদ এরিকের ভরণপোষণসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে নিজ নামে ট্রাস্ট গঠন করেন। যার প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে ওই বছরের ১৪ জুলাই তার মৃত্যুর পর ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় সকল সদস্যদের সিদ্ধান্তক্রমে মেজর খালেদ (অব.) ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনিও ২০২০ সালের ১২ জুলাই মারা গেলে পুনরায় ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্যদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাস্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন কাজী মো. মামুনুর রশিদ। ট্রাস্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত বোর্ডের সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ট্রাস্ট পরিচালনা করে আসছেন তিনি। সুবিধাভোগী এরিক এরশাদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভরণপোষণসহ যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করছেন। এরিকের সার্বিক দিক বিবেচনা করে ট্রাস্ট গঠনকালে ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে উল্লেখ করেন, সুবিধাভোগী শাহাতা জারাব এরশাদ এরিকের মা বিদিশা সিদ্দিক ট্রাস্টের তফসিলে বর্ণিত কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ, দখল বা কোনো প্রকার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কে আসা-যাওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়, যা ট্রাস্টের সকল সদস্যরা জানেন।

মৌখিক অনুমতি পাওয়ার পরে তিনি (বিদিশা সিদ্দিক) মাঝে মধ্যে প্রেসিডেন্ট পার্কে রাত্রীযাপন করতেন। যা ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের জানতে পারলে বিদিশা সিদ্দিককে ট্রাস্টের দলিলে উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং প্রেসিডেন্ট পার্কে রাত্রীযাপনের বিষয়টি বেআইনি বলা হলেও তা আমলে নেননি তিনি। নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও দলবল নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে স্বঘোষিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরম্ভ করেন বিদিশা, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও ট্রাস্ট আইনের পরিপন্থী বলেও ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, গত ২ অক্টোবর এরিক এরশাদের (সুবিধাভোগী) মৌখিক ও লিখিত নিরাপত্তাহীনতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ প্রেসিডেন্ট পার্কে গেলে বিদিশা সিদ্দিক তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে, এতে সকল সদস্য বিস্মিত হয়। সুবিধভোগীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি তার নেতা-কর্মীদের দ্বারা চেয়ারম্যানসহ বোর্ড সদস্যদের হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তাই প্রেসিডেন্ট পার্ক ও এরিকের নিরাপত্তা নিয়ে তারা (ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সদস্যরা) শঙ্কিত। এরিকের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ফোনটিও মা বিদিশা সিদ্দিক তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট পার্কে দলীয় লোকদের নিয়োগ দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন তিনি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শাহাতা জারাব এরশাদ এরিককে বন্দিদশা হতে উদ্ধার করতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একইসঙ্গে এরিককে এককভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্য ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদানের দাবি করা হয় ওই আবেদনে।

আবেদনের কপি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর পুলিশ কমিশনার, পুলিশের গুলশান জোনের উপকমিশনার বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ‘সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।’

এরশাদ ট্রাস্ট্রের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি এরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কারণ, বিদিশা তার ছেলের ওপর যেভাবে মানসিক অত্যাচার করছেন, তাতে এরিকের জীবন বিপন্ন হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদিশার প্রেসিডেন্ট পার্কে বসবাস করার অধিকার নেই। তিনি এরশাদের তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী। এরশাদ লিখিত দিয়ে গেছেন যে, বিদিশা তার এই বাড়ি এবং ট্রাস্ট্রের কোনো সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ বা ভোগদখল করতে পারবে না।’

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img