20 C
Dhaka

ঝিনাইগাতীতে বন্যা কেড়ে নিল ২ জনের প্রাণ

প্রকাশিত:

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় দ্বিতীয় দফায় গত শুক্রবার সকালে আকস্মিক বন্যায় দুইজনের প্রাণ কেড়ে নিয়ে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাজারো পরিবার পানিতে বন্ধী হয়ে পড়েছে । আজ রোববার আকাশ ভালো থাকায় পানি হ্রাস পেলেও নিন্ম অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয় গেছে । উজানে বন্যার উন্নতি হয়েছে ঠিকই ভাটি এলাকায় পানিতে বন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার ।

শুক্রবার বন্যার পানিতে পড়ে দুইজন নিখোঁজ হলেও গতকাল শনিবার তাদের লাশ পাওয়া গেছে । এরা হলেন উপজেলার বৈরাগী পাড়ার নফিজ উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী(৫৫) বাঘেরভিটা গ্রামের শেখ কাদিরের ছেলে আবুল কালাম(৩১) বন্যার পানিতে নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে ।

শুক্রবার সকালে উজান থেকে নেমে আসা মহারশি নদিতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিমিষেই ভয়াবহ বন্যায় রুপান্তরিত হয়ে উপজেলার সদর সহ সর্বত্রে পানি প্রবেশ করে বন্যার গ্রাসে পড়ে উপজেলাবাসী । এই বন্যায়,রাস্তাঘাট, পুকুরের মাছ, সদ্য রুপনকৃত কৃষকের বীজতলা, লেয়ার মুরগির খামার সহ কৃষকের শতশত হেক্টর আবাদি জমিতে বালুর স্তর পড়ে আসন্ন আমন ফসলের হুমকি হয়ে দাড়িয়ে সরকারী অফিসের আসবাবপত্র বিনষ্ট হয়ে গেছে ।

ঝিনাইগাতী বাজারের পূর্ব পার্শে নদির কাঁচা রাস্তা ভেঙে পানি প্রবেশ করার ফলে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়ে বিনিয়ামের ডিমপাড়া ২টি লেয়ার মুরগির খামর ঘর বিধ্বস্ত হয়ে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ।

সদর থেকে পানি নেমে গেলেও ভাটি এলাকার বগাডবি,পাগলারমুখ,সূরিহারা,কালিনগর,বাঘেরভিটা,রনগাও,চতল,কান্দলী,মাঝাপাড়া,দক্ষিনকান্দলী, দাড়িয়ারপাড়,সূরিহারা,

সারিকালিনগর,দিঘিরপাড়,বাইতেগাও, হাসলিগাও সহ ৩০টি গ্রামের মানুষ পানিতে বন্দী হয়ে পড়েছে । শেরপুর জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার, উপজেলা চেয়ারম্যান এস,এম এ ওয়ারেজ নাইম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ মাহমূদুল হক রুবেল ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান সহ অনেকেই শনিবার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ।

এ সময় জেলা প্রশাসনের বরাদ্ধকৃত ১৫ মেট্রিকটন জিআরের চাল ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ জানান, বন্যা কবলিত এলাকার জন্যে প্রাথমিক ভাবে বরাদ্ধ পেয়ে তা বিতরণ করা হয়েছে । শেরপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবার জিআর ও নগদ টাকা বিতরণের জন্যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে । উপজেলাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহারশী নদির বেরিবাঁধ ও শহর রক্ষাবাঁধ নির্মাণে জোরালো দাবি তুলেছেন ।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img