26 C
Dhaka

টাকা দিয়ে আগে নারীসঙ্গ পাওয়ার দ্বন্দ্বে কিশোর হত্যা

প্রকাশিত:

গাইবান্ধা থেকে ১৫ বছর বয়সী একজন কিশোর এবং ২০ বছর বয়সী যুবক সজীবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সজীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, টাকা দিয়ে আগে নারীসঙ্গ পাওয়ার দ্বন্দ্বে ১৫ বছর বয়সী কিশোর রাকিবকে হত্যা করেছে সে।

গাছের ডাল দিয়ে রাকিবের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাতের পর গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ডোবায় ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যায় সজীব ও তার সঙ্গে থাকা আরেক কিশোর।

ঘটনার তিনদিন পর বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলায় একটি ডোবা থেকে হত্যার শিকার কিশোর রাকিবের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সোনাতলা উপজেলার চমরগাছ লাহিরীপাড়া গ্রামের একটি ডোবায় লাশ দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাকিবের লাশ উদ্ধার করে।

শুরুতে রাকিবের পরিচয় পাওয়া না গেলেও পরে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। ওই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রাকিবের ভাই বেলাল।

লাশ উদ্ধারের পর থেকেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যা রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করা হয়। পরে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যারহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয় পুলিশ।

হত্যা রহস্য উদঘাটনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটির বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত ১৫ বছর বয়সী রাকিব হাসান গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হিয়াতপুর গ্রামের বাসিন্দা শামসুল ইসলামের ছেলে। নিহত রাকিব, হত্যাকারী আহসান হাবীব সজীব ও আরেক কিশোর একই গ্রামের। ওই কিশোর রাকিবের বন্ধু। সজীবের সঙ্গে তাদের সখ্য ছিল। তারা তিনজন মিলে টাকার বিনিময়ে এক নারীকে ভাড়া করে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোর জন্য।

বগুড়ার সোনাতলার চমরগাছা লাহিড়ীপাড়া গ্রামের পতিত জমিতে ভাড়া করা নারীর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কথা ছিল। রাতের নির্জনতায় তারা তিনজন সেখানে যায়। ভাড়া করা নারীটির আসতে দেরি হচ্ছিল। অপেক্ষারত অবস্থায় তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করে কে আগে নারীটির সঙ্গে মিলিত হবে। রাবিক ও সজীব দুজনই আগে নারীটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে যায়।

উত্তেজিত হয়ে গাছের ডাল দিয়ে রাকিবের মাথায় সজোরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে সজীব। একপর্যায়ে রাকিব মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। রাকিবকে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পাওয়ায় তার গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে সজীব।

হত্যার পর রাকিবের লাশ ফসলী জমির পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। লাশ কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

রাকিব

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img