26 C
Dhaka

টয়লেটে পরকীয়া, প্রেমিকের সঙ্গে ধরা উলঙ্গ গৃহবধূ

প্রকাশিত:

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলাধীন শ্রীরামপুর ইউনিয়নে প্রতিবেশী অবিবাহিত ২২ বছর বয়সী যুবকের সঙ্গে বিবাহিত যুবতীর অবৈধ পরকীয়া সম্পর্কের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব আজিজপুর বুদলুকামা গ্রামে ভোরবেলা টয়লেটে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে ওই পরকীয়া প্রেমিক যুগল। অভিযুক্ত গৃহবধূর স্বামী ও এক পুত্র সন্তান নিয়ে সংসার থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে পাশের বাড়ির রাকিবের (২২) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক।

পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে টয়লেটে সঙ্গমরত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তার স্বামী আশরাফুল (২৪)।

স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে আশরাফুল বলেন, আমি অনেকদিন থেকে শুনে আসছি (প্রতিবেশীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কথা)। কিন্তু বিশ্বাস করিনি। তবে ঘটনার দিন ভোরবেলা তারা টয়লেটে শারীরিক সম্পর্কে জড়াবে বলে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে। তাদের একে অপরের যোগাযোগ থেকে বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি সতর্ক থাকি। পরে পাড়া-প্রতিবেশী সহকারে ঠিক ভোরবেলা আমাদের টয়লেটে দুজনকে উলঙ্গ অবস্থায় আটক করি। আমি তাকে ঘরে তুলতে চাই না। প্রয়োজনে আত্মহত্যা করবেন বলেও জানান আশরাফুল।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গৃহবধূর ভাষ্য, রাকিব তাকে ভাবি সম্বোধন করে নানাভাবে ভুলিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ছেলেটির সঙ্গে কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক হলেও ঘটনার দিন এরকম কিছু হয়নি বলে দাবি করেন ওই গৃহবধূ। তবে তিনি ছেলেটিকে বিয়ে করতে চান। ছেলেটির সঙ্গে বিয়ে না হলে বিষ খেয়ে নিজেকে শেষ করে দে আরো হুমকি দেন ওই গৃহবধূ।

অন্যদিকে অভিযুক্ত রাকিব দাবি করেছেন, প্রতিবেশী ও গৃহবধূর সঙ্গে তার মাঝে মাঝে কথা হতো। কিন্তু কোনো রকম অনৈতিক সম্পর্ক তাদের ছিলো না। জোর করে টয়লেটে ঢুকিয়ে অপবাদ দেওয়া হয়েছে তাদের। ওই গৃহবধূকে কখনোই বিয়ে করতে চান না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাকিব।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠক বসে। এ সময় মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মীমাংসা চেষ্টার সময় বিপত্তি ঘটে। অভিযুক্ত যুবতী গৃহবধূর কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হলে উপস্থিত এলাকাবাসী ক্ষেপে গেলে গ্রাম্য সালিশটি ভেঙ্গে যায়।

এ সময় সালিশের বিচারকদের বিরুদ্ধে টাকা খেয়ে বিচার নিয়ে টালবাহানা করার অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পাটগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে জানা গেছে, ঘটনার পরদিন বুধবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে মেয়ের সম্মতিতে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় মিমাংসা করা হয়। মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিশেষ বিবেচনায় এমন সমাধান করা হয়।

পাটগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মোকছেদ জানান, উভয় পক্ষের আপোষে সম্মতি থাকায় বিষয়টি থানায় সমাধান হয়েছে। আর আশরাফুলের বিষয়টি আলোচনা করে পরবর্তীতে সমাধান করা হবে।

কিন্তু আশরাফুলের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপোষ হয়ে গেলো অথচ আমরা জানি না। আমাদের বিষয়টির কোনো সুরাহা হলো না।

পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক জানান, ঘটনার পর রাতে অভিযুক্ত ছেলে ও মেয়েকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরদিন পর্যন্ত উভয় পক্ষের কোনো অভিযোগ না থাকায় বিষয়টি আপোষনামার মাধ্যমে সমাধান করা হয়। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়ে অবগত নন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img