20 C
Dhaka

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আতঙ্কের নাম সেলফি পরিবহন

প্রকাশিত:

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আতঙ্কের নাম সেলফি পরিবহন। এই মহাসড়কে প্রায় অর্ধেক দুর্ঘটনা ঘটায় সেলফি পরিবহনের বাস।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তরা ব্রিজের উপরে সেলফি পরিবহনের বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন দুই ছাত্র। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয় একটি সেলফি বাসে। ভাঙচুর করে আরও দুটি বাস।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সেলফি পরিবহনের কয়েকজন চালক ও সুপারভাইজার এর সাথে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রতিদিন প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০টি সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল করে। বেশির ভাগ চালকের বড় গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা কম। বাসের মালিকরা অল্পটাকায় এসব চালকদের চাকরি দেন। আবার অনেক চালকের লাইন্সেস নাই।

তারা বলেন, সেলফি পরিবহনের বাসগুলো একসময় দূর-পাল্লার বাস ছিল। সেখান থেকে এনে ঢাকা-অরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহন করা হয়েছে। এসব গাড়ি দক্ষ চালক দিয়ে চালাতে হয়। অনেক চালক ছোট গাড়ি চালিয়ে এসে যখন বড় গাড়ির পিকাপে পাড়া দেয়, তখন শা শা করে দৌড়ায় গাড়ি। বড় গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকায় তারাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। এছাড়াও প্রতি ট্রিপে একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা পরিবহন মালিককে দিতে হয়। এর সাথে আছে বিভিন্ন ধরনের চাঁদা। এরপর যা থাকে সেই টাকা চালক ও হেলপার পেয়ে থাকে। সে জন্য বেশি ট্রিপ দেয়ার জন্য চালকরা দ্রুত গাড়ি চালায়।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ১৩ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭০টি। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৯জন। আহত হয়েছেন শতাধিক।

এই পরিসংখ্যান ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের প্রায় অর্ধেক। এই পরিসংখানের মধ্যে অধিকাংশই সেলফি পরিবহন দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে নিহত ও আহত পরিবারে সাথে যানবাহনের কর্তৃপক্ষ সমঝোতা করার কারণে মামলা কম হয়।

মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠন ঢাকা আরিচা মহাসড়কে এই পরিবহন চলাচল নিষিদ্ধ করার জন্য মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ইমরান খান বলেন, সেলফি পরিবহন বাসটি অনেকটা দূরপাল্লা বাসের মত। চলাচলের জন্য আরামদায়ক। চালকদের দ্রুত গতিতে চালানো ও দক্ষ চালক না থাকায় সেলফি পরিবহনে বেশি দুর্ঘটনা হয়। প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইনে সেলফি পরিবহন দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু ও আহত হয়েছে এমন সংবাদ জানতে পারছি। আমি নিজেও দেখেছি সদর উপজেলার মূলজান এলাকায় সেলফি পরিবহন দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারায় রঙলাইনে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছিল। তারপর থেকে আমি আর সেলফি পরিবহনে যাতায়াত করি না। গত মে মাসে বারবাড়িয়ায় সেলফি পরিবহনের একটি বাস খাদে পড়ে যায়। সে সময় গুরতর আহত হয় মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের চা বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন। তার সাথে সেলফি পরিবহনের কতৃপক্ষ সমঝোতা করে ১৭ হাজার টাকা দিয়ে। সে কারণে কোনো মামলা করেননি তিনি।

বরঙ্গাইল হাইওয়ে পুলিশ ও ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির হোসেন জানান, গত ৫ মাসে সেলফি পরিবহনের বাসের বিরুদ্ধে আনুমানিক ৬টি দুর্ঘটনার মামলা হয়েছে। এখনও দুটি বাস ফাঁড়িতে আটক রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ জানান, আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বেপরোয়া সেলফি পরিবহনের বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। সেলফি পরিবহনের বিষয়টি লিখিত আকারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img