20 C
Dhaka

দেশের বিভিন্ন এলাকার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত, শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধিসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক এলাকায় উঠেছে বাসা বাড়ীতে পানি। এলাকার লোকজন চরম উৎকণ্ঠা ও দুচিন্তায় আছেন কখন বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় তার নিজ বাসবভন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মুননদী পাড় ও শহরের আশপাশের মানুষজনের মধ্য সবচেয়ে বেশী আতংস্ক সৃস্টি হয়েছে। নদীর পানির বৃদ্ধি সর্তক দৃষ্ঠি রাখছেন সবাই। এছাড়াও বড়লেখায় বন্যা সংশ্লিষ্ট কারণে এক বৃদ্ধ ও এক শিশুসহ দু’জনের মৃত্যৃর খবর পাওয়া গেছে এবং ৪জন আহত হয়েছে।

তবে গতকাল রবিবার জেলায় কোন বৃষ্টিপাত না হওয়াতে মানুষের মনে কিছু আশা জাগছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় জেলার বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলার মানুষজন। ইতেমধ্যে এই দুই উপজেলার সদর ও বেশ কিছু ইউনের মানুষ তাদের বাসাবাড়ী ও রাস্তা ঘাট বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও সদরের সাথে ইউনিয়নের সড়র যোগাযোগ বিচ্চিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্র প্লাবিত হওয়ার কারণে এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছে। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ জেলার সংসদ সদস্য (মহিলা আসন-৩৬) মৌলভীবাজার জেলা মহিলা আওয়ামী লীগে সভাপতি সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন এমপি ও পৌর মেয়র মো: ফজলুর রহমান বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা ও ঝুকিপুর্ণি বাধ পরিদর্শন করেছেন। সাথে রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা।

জানাযায়, বড়লেখা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পৌরশহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে। এছাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষজন। এছাড়া পানিতে চান্দগ্রাম-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

এদিকে শনিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় ভারী বর্ষণে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির আয়েশাবাদ চা বাগানে টিলা ধসে রাজন ব্যুনার্জি (৬০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় চারজন আহত হয়েছেন।

এছাড়া বড়লেখা সদর ইউপির কেছরিগুল গ্রামে টিলা ধসে একজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের আদিত্যের মহাল এলাকায় ঢলের পানিতে শনিবার তলিয়ে যাওয়া এক শিশুর মরদেহ রোববার (১৯ জুন) উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই শিশুর নাম জানা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুরো জেলার মধ্যে বন্যায় বড়লেখা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে শনিবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বড়লেখার বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরি সভা করেছেন। এসময় তিনি জনদুর্ভোগ লাগবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।

উত্তর শাহবাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আয়েশাবাগ চা বাগানে শনিবার সকালে টিলা ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় চারজন আহত হয়েছেন। টিলার পাদদেশে যারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।

বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বড়লেখা পৌরসভার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার শহর থেকে পানি নেমে গেলেও পৌরসভার নিচু এলাকা এখনও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এছাড়া পৌরশহরের প্রায় সবকটি দোকানে পানি উঠে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হয়নি।  এছাড়া আদিত্যের মহাল এলাকায় শনিবার ঢলের পানিতে পড়ে তলিয়ে যাওয়া এক শিশুর মরদেহ রোববার সকালে উদ্ধার করা হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বলেন, বড়লেখায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও টিলা ধস প্রতিরোধে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি ২১ টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উবায়েদ উল্লাহ খান বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য শুকনো খাবার প্রস্তুত করা হয়েছে। রোববার আমরা পানিবন্দি এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করেছি।

কুলাউড়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে হাকালুকি হাওর এলাকা বেষ্টিত ভূকশিমইল ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকার স্থানীয়রা জানান, বন্যায় হাকালুকি হাওর এলাকা ভূকশিমইলের সাথে কুলাউড়া উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এরমধ্যে নেই বিদ্যুৎ। মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধের পথে। পরিস্থিতি ক্রমে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ভূকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, ভূকশিমইলে গত দুইদিন থেকে বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর। সড়কে পানি ওঠায় উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তিনি জানান, হাওর এলাকার মানুষ বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন। ভূকশিমইল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঘাটের বাজার শেড ঘর ও গৌড়করণ মাদ্রাসায় আশ্রয় নিচ্ছেন বন্যার্তরা। তিনি ভূকশিমইল ইউনিয়নকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানান।

এদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় ভূকশিমইলের প্লাবিত বাড়িঘর পরিদর্শন করে বন্যার্তদের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরী।
ইউএনও জানান, তিনি বর্তমানে (রবিবার) ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বন্যাকবলিত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে জনপ্রতিনিধিসহ স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে তিনি কাজ করছেন।
অপরদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদসহ পৌরবাসী পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ জানান, জলনিষ্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় পৌরবাসীরা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পৌর এলাকায় দুইটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের  পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img