28 C
Dhaka

নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, হাসপাতালে নেয়ায় রক্তাক্ত গ্রাম পুলিশ

প্রকাশিত:

ঠাকুরগাঁওয়ে এক অসহায় নারীকে বিবস্ত্র করে বেধরক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছে দেয়ায় বেলাল নামে এক গ্রাম পুলিশকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে সন্ত্রাসীরা।

সম্প্রতি সদর উপজেলার রুহিয়া সেনেহারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত কুদ্দুস আলী, আনোয়ার হোসেন (পটল), জীবন, মশিউর, মমিন, মাস্টারসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ মিছিল করে। পরে রুহিয়া থানা পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্থানীয়রা জানান, কথা কাটাকাটির জের ধরে প্রতিবেশী কুদ্দুস আলী ও তার ছেলে জীবনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী আহসান হাবীব কামালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে পিটিয়ে জখম করে। শুধু তাই নয়, তাকে বিবস্ত্র করে লাঞ্ছিতও করে।

আহত অবস্থায় ওই নারী বিচারের আশায় রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দিকে রওনা হলে পথে তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পান গ্রাম পুলিশ বেলাল। তখন তার চিকিৎসার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বেলাল ওই নারীকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

কেন ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হলো- এ কারণে বাড়ি ফেরার পথে গ্রাম পুলিশ বেলালের পথরোধ করে জীবনসহ কয়েকজন মিলে বেধরক মারপিট করে। এসময় স্থানীয়রা বেলালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এমন ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ মিছিল করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকার সন্ত্রাসী। তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেই আজ এমন ঘটনা ঘটেছে। অবিলম্বে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।

ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার জমিতে আমি পাটখড়ি রাখার খাড়া তৈরি করার সময় কুদ্দুস আলীসহ আরো কয়েকজন আমাকে মারপিট করে। তখন একই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল ২০ নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ বেলাল হোসেন (৪০)। সে আমাকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে শুনি, বেলালকেও তারা মারধর করেছে। আমি কুদ্দুস ও তার ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

রুহিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অনিল কুমার জানান, অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ করছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। একজন নারীকে বাঁচাতে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া কি অপরাধ? এজন্য গ্রাম পুলিশ বেলালকে মারধর করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা জানান, মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলেই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img