31 C
Dhaka

নিজের ভুলে আপনজনকে যেন হারিয়ে না ফেলি

প্রকাশিত:

কিছুদিন আগেই ঢাকাই ছবির অন্যতম সফল তারকা দম্পতি হিসেবে বিবেচিত মৌসুমী ও ওমর সানির সুখের সংসারে অশান্তির ঝড় উঠেছিল। চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় মৌসুমী ও ওমর সানির দাম্পত্য জীবনে। ওমর সানি সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটান খলনায়ক ডিপজলের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে। সেখানে জায়েদ খানের গালে থাপ্পড় মারেন ওমর সানি। থাপ্পড় খেয়ে ক্রোধে উন্মত্ত জায়েদ খান পিস্তল বের করে ওমর সানিকে বলেন, গুলি করে দেবো কিন্তু।

ওই ঘটনার পর শুরুর দিকে জায়েদ খানের পক্ষ নিলেও পরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যস্থতায় ওমর সানির সঙ্গে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলেন মৌসুমী। সম্প্রতি ওমর সানি তার ভেরিফাইড ফেসবুকে আবেগঘন একটি বাস্তব ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন, আমাদের নিজের ভুলে আমরা আমাদের কোনো আপনজনকে যেন হারিয়ে না ফেলি। আমাদের পরিবার যেন ভেঙে না যায়।

ওমর সানি তার ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্টে লিখেছেন, কুকুরটি এতই বিশ্বস্ত ছিল যে এক নারী প্রায়ই তার সন্তানকে কুকুরটির সঙ্গে একা বাসায় রেখে টুকটাক কাজ সারতে বাইরে যেতেন। ফেরার পর প্রতিবারই তিনি দেখতে পেতেন তার সন্তান কুকুরটির সঙ্গে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।

একদিন তিনি নিজের সন্তানকে তার বিশ্বস্ত কুকুরটির কাছে রেখে শপিং করতে গেলেন। শপিং শেষ করে বাড়িতে ফেরার পর তিনি দেখতে পেলেন চরম বীভৎস এক দৃশ্য। তিনি দেখলেন, তার পুরো বাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে আছে। সন্তান সব সময় খাটে থাকলেও সে সময় তাকে দেখতে পেলেন না ওই নারী। শুধু তাই নয়, সন্তানের ডায়াপার ও পরনের পোশাক ছিন্নভিন্ন হয়ে এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মেঝের বিভিন্ন জায়গায় লেগে আছে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ।

প্রচন্ড আতঙ্কে ওই নারী তার সন্তানকে হন্যে হয়ে খুঁজতে শুরু করেন। ঠিক তখনই তিনি তার সেই বিশ্বস্ত কুকুরটিকে খাটের নিচ থেকে বের হয়ে আসতে দেখলেন। কুকুরটির সারা মুখ রক্তে মাখামাখি ছিলো। রক্ত তার মুখ বেয়ে বেয়ে এমনভাবে গড়িয়ে পড়ছিল যে দেখে মনে হলো যেন এখনই কোনো পছন্দের সুস্বাদু খাবার খাওয়া শেষ করেছে কুকুরটি।

ওই নারীর আর বুঝতে বাকি রইলো না যে, কুকুরটি তার সন্তানকে খেয়ে ফেলেছে। কোনো কিছু চিন্তা না করেই তিনি কুকুরটিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। এরপর তিনি খুঁজতে থাকেন তার সন্তানের শরীরের কোনো অংশ আদৌ বাকি আছে কি না।

ঠিক তখনই তিনি আবিষ্কার করেন আরেক বিস্ময়কর দৃশ্য। তিনি দেখতে পান, খাটের অন্যপাশে কার্পেটের উপর তার সন্তান খেলা করছে সম্পুর্ণ সুস্থ অবস্থায়। তারপর খাটের নিচে তাকাতেই ওই নারী দেখেন সেখানে পড়ে আছে একটি সাপের ছিন্নভিন্ন শরীর। আসলে খাটের নিচে সাপটির সাথে কুকুরটির যুদ্ধ হচ্ছিল। বিশ্বস্ত কুকুর শিশুটিকে বাঁচাতে তার সর্বশক্তি দিয়ে সাপটিকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল।

ওই নারী সবকিছু বুঝতে পারলেও ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। তার ধৈর্যহীনতা ও সর্বগ্রাসী রাগ ততক্ষণে তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুকে।

এই সত্য ঘটনা একটি পোষা কুকুরের সঙ্গে ঘটলেও এমন ভুল কি আমাদের আপনজনদের সঙ্গেও হয়ে যায় না? আমাদের পরিবারের মধ্যেও হয়ে যায় না? তাই পরিস্থিতি বিচার করার জন্য সবসময় ধৈর্য্য ধরুন। অহেতুক ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন। আমাদের নিজের ভুলে আমরা আমাদের কোনো আপনজনকে যেন হারিয়ে না ফেলি। আমাদের পরিবার যেন ভেঙে না যায়। আল্লাহ সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img