23 C
Dhaka

পদ্মা সেতু দিয়ে সরাসরি ইউরোপ ভ্রমণ (ভিডিও)

প্রকাশিত:

২৫ জুন, শনিবার বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বপ্নের সেতুটি নানা সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বাংলাদেশের জন্য। তার মধ্যে অন্যতম হলো, সিঙ্গাপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি ট্রেন চলে যেতে পারবে ইউরোপে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গেও যুক্ত করবে এই পদ্মা সেতু। বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই রেল নেটওয়ার্ক চালু হলে ভারত, ভুটান ও নেপালে সরাসরি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্যই নয়, বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের নাগরিকদের জন্যও সড়ক বা রেলপথে বিশ্বভ্রমণের স্বপ্নপূরণে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এই পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতুর দুই পাড়েই চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ের সুবিধা যুক্ত হয়েছে আগেই। এটি মোংলা ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করবে। যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গেও। ঢাকা, বেনাপোল ও তামাবিল হয়ে ভারত-পাকিস্তান-আফগানস্তান যাওয়া যাবে এই সড়ক ধরে।

ট্রান্স এশিয়ান রেল লাইনের জন্যও বড় সম্ভাবনা নিয়ে আসছে পদ্মা সেতু। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে দরকার ১৬৯ কিলোমাটার রেলপথ। সেই কাজও চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে গেন্ডারিয়া, মাওয়া, জাজিরা ও ভাঙ্গা রুটের কাজ প্রায় শেষ।

বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরীর ওপর ১৭ কিলোমিটার রেল ব্রিজ নির্মাণ হলেই ট্রান্স এশিয়ান রেলে যুক্ত হওয়া যাবে। এর মধ্য দিয়ে সড়ক ও রেলপথে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।

ঢাকা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নড়াইল, ফরিদপুর, যশোর, বেনাপোল এবং উত্তরে চিলাহাটি হয়ে দার্জিলিং পর্যন্ত যাবে সুদীর্ঘ এই রাস্তা। এটি তুরস্কের ইস্তাম্বুল, ইরানের তেহরান ও পাকিস্তানের ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকা-দিল্লিকে যুক্ত করবে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হবে দুই মহাদেশের দুই দূরতম প্রান্ত যা ঢাকাকে ছুঁয়ে যাবে। এছাড়া এটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলকে যুক্ত করবে জাপানের টোকিওর সঙ্গে।

ট্রান্স এশিয়ান নেটওয়ার্ক ধরে সিঙ্গাপুর থেকে ইউরোপে ট্রেন যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে ট্রেন। কেবল বাংলাদেশ নয়, ভারতেও এত দ্রুত গতিতে কোনো সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলতে পারে না এখন। ভারী পণ্য ও বহু যাত্রী নিয়ে তীব্র গতিতে ট্রেন ছুটবে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে। বিষয়টি মাথায় রেখেই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হেভি লোডেড সেতু ও রেলপথ বানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img