20 C
Dhaka

পাট চাষে আগ্রহ কমেছে চাষিদের

প্রকাশিত:

নওগাঁ প্রতিনিধি : শস্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁ বর্তমানে ধান ও আম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। একসময় এ জেলায় ব্যাপক পাট আবাদ হত। কিন্তু পাট চাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যওয়া ও সে তুলনায় নায্য মূল্য না পাওযায় দিন দিন পাট চাষে আগ্রহ কমেছে নওগাঁর চাষিদের। ফলে এ জেলায় বছর বছর কমছে পাটের আবাদ।

জেলা কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেলায় ৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে পাটের আবাদ হয়েছিল ৫ হাজার ৭২৫ হেক্টর। ২০২০-২১ অর্থবছরে পাটের আবাদ হয়েছিল ৫ হাজার ৯৩৩ হেক্টর। এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬ হাজর ১৫০ হেক্টর এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর । গত ৫ বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ কমেছে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর।

উপজেলা ভিত্তিক পাট চাষ হয়েছে- নওগাঁ সদর উপজেলায় ৬০০ হেক্টর, রানীনগরে ৪০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ২৫০ হেক্টর, বদলগাছীতে ১ হাজার ৪৬০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২০০ হেক্টর, পত্নীতলায় ১৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ৮৩০ হেক্টর এবং মান্দায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর। জেলার ১১ উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলায় (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) চলতি বছর কোনো পাটের আবাদ হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয় জেলার মান্দা উপজেলায়।

জেলার একাধিক চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- পাট জাগ দেওয়া, আশঁ ছড়ানো, হাল চাষ, বীজ, সার, নিড়ানি ও পরিবহন খরচসহ পাট চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১২-১৪ হাজার টাকা করে। একবিঘা জমিতে ভালো ফলন হলে ১২ মণ পাট পাওয়া যায়। এছাড়াও পানি সংকটে জাগ দেওয়া সমস্যা, শ্রমিক সংকট ও মজুরি বেশি হওয়ায় এবং দাম না পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ নেই। অন্যদিকে পাটের আবাদ কমে যাওয়ায় গত দুই বছর থেকে বেড়েছে পাটের দাম। গত বছর প্রতি মণ পাট ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন পাট চাষিরা।

ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর গ্রামের জালাল উদ্দীন বলেন, প্রতি বিঘায় পাট চাষ করতে খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকার মত। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা থেকে পাট পাওয়া যায় ১০-১২ মণের মত। কিন্তু দাম পাওয়া যায়না। গত বছর ৫বিঘা পাটের আবাদ করে দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে সে জন্য এবছর আর পাট চাষ করিনি।

বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের পাট চাষি ওবায়দুর রহমান বলেন,আগের তুলনায় পাট চাষের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সে অনুযায়ী পাটের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এবার ২ বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। লোকসান হলে আর পাট চাষ করব না।

মান্দা মৈনমের পাট চাষি আবুল কালাম বলেন, এবার ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভালো দাম না পেলে লোকসান গুনতে হয়। গত বছর কিছুটা লোকশান হয়েছিল। প্রতি বিঘায় পাট চাষে ৯ থেকে ১০ মণ পাটের ফলন পাওয়া যায়। আবার পাটকাঠি পাওয়া যায়। এতে দেখা যায় সব মিলিয়ে আয়-ব্যয় সমান হয়ে আয়।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মনজুরে মাওলা বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রার ছিল। সেখানে অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৪২৫ হেক্টর কম। পানি সংকটে পাট জাগ দেওয়া (পঁচানো) সমস্যার কারণে কৃষকদের আগ্রহ কম হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার কম পরিমাণে জমিতে আবাদ হয়েছে। তবে বর্তমানে পাটের দাম ভালো রয়েছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পাট চাষে কৃষককে উদ্বৃদ্ধ করতে প্রণোদনাসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। সেই সাথে পাটের ফলন বাড়াতে পাট গবেষণা থেকে উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img