27 C
Dhaka

পৃথিবীর ইতিহাসে ১৫ আগস্টের মত ন্যক্কারজনক ঘটনা আর একটাও ঘটে নাই : চৌধুরী কামরুল হাসান

প্রকাশিত:

ইটনা(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই মার্চ (৩রা চৈত্র ১৩২৭ বঙ্গাব্দ) রাত ৮টায় তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের বাইগার নদী তীরবর্তী টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শেখ বংশের গোড়াপত্তনকারী শেখ বোরহানউদ্দিনের বংশধর।

জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

তিনি ভারত বিভাজন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন। শুরুতে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি, এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের প্রয়াস এবং পরবর্তীকালে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বাংলাদেশের “জাতির জনক” বা “জাতির পিতা” হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এছাড়াও তাকে প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জনসাধারণের কাছে তিনি “শেখ মুজিব” বা “শেখ সাহেব” নামে এবং তার উপাধি “বঙ্গবন্ধু” হিসেবেই অধিক পরিচিত। তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে একান্ত সাক্ষাৎকারে ইটনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুল হাসান বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে ১৫ আগস্টের মত ন্যক্কারজনক ঘটনা আর একটাও ঘটে নাই।বাঙালি জাতির জন্য ১৫ আগস্ট দিনটি একটি শোকের দিন যা বাঙালি জাতি কোনদিন ভুলতে পারবে না। এটা শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শোক দিবস না এটা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটা মানুষের শোক দিবস।

চৌধুরী কামরুল হাসান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব , বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং তার ছেলে আরিফ ও সুকান্তবাবু, মেয়ে বেবি, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনীদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় এলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামী বরখাস্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি চৌধুরী কামরুল হাসান দাবি করে বলেন, যতদিন না ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের জাতির পিতার খুনি যারা এখনও দেশের বাহিরে আছে, ঐসব খুনিদের এই বাংলার মাটিতে এনে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে ততদিন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার শান্তি হবেনা।

তিনি দাবি করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যারা হত্যার পরিকল্পনা করেছিল তাদের মুখোশ এখন উন্মোচিত হয় নাই।আমরা চাই অতি শীঘ্রই জাতির পিতার খুনের পরিকল্পনাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করবেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা জানাতে চাই পরবর্তী প্রজন্মকে যারা জাতির পিতার হত্যা নীল নকশা করেছিল।

এখনও দেখা যায় জাতীয় পতাকা নক দিয়ে খামছে ধরে ঘাতকচক্রের বংশধর। এখনও জাতির পিতার সন্তানদের প্রতিটা মুহূর্ত চরম শঙ্কায় কাটাতে হয়। দেখা যায় ১৫ আগস্ট আসলে জাতির পিতার কন্যাদের কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়। যিনি এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন তার সন্তানদের এই স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবে চলাচলের বাধা সৃষ্টি করছে একদল ঘাতকচক্রের বংশধর।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতার হত্যার পরে সবচাইতে বেশি সুবিধা পেয়েছেন তৎকালীন মেজর জিয়া, তার পরিবার এবং উনার রাজনৈতিক দল। মেজর জিয়া ১৫ আগস্ট এর খুনিদের সুযোগ করে দিয়েছিলেন দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য এবং খুনি বংশধরদের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন এবং খুনিদের বিলাসবহুল জীবন যাপনের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন। আমরা আওয়ামীলীগের কর্মীরা এই ন্যক্কারজনক অধ্যায়ের সমাপ্তি চাই।

চৌধুরী কামরুল হাসান আগামী তরুণ প্রজন্মে কাছে খুদেবার্তায় জানান, আজকের তরুণ প্রজন্ম যারা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিবে তাদের উচিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী র বইগুলো পড়া, জাতির পিতার আদর্শ, উনি যে নিরহংকার ছিলেন, একদম খাঁটি বাঙালির যে চরিত্রটা ছিল, খুব সাদামাটা জীবনযাপন ছিল, মাটি মানুষের নেতা ছিলেন, বাংলার মাটি ও মানুষের কথা শুনতেন, মাটি ও মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে যেতেন এইগুন গুলো জীবনে ধারণ করার।

জাতির পিতাকে প্রশ্ন করে ছিল, আপনার সবচেয়ে দুর্বল দিক কোনটা তিনি বলেছিলেন আমি বাঙালিদের ভালবাসি, আপনার সবচেয়ে শক্তি কি তিনি তখনও বলেছিলেন আমি এ দেশের মানুষকে আরও বেশি ভালোবাসি। আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ করি তারা সাধারণ মানুষের চোখের ভাষা ও মনের ভাষা বুঝতে পারি।

১৯৭১ সালে জাতির পিতার একটি ডাকে এই দেশের সর্বস্তরের মানুষ দেশকে স্বাধীন করার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে নেমেছিল। কিন্ত ঘাতকচক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে এই স্বাধীন বাংলাদেশ সাজিয়ে তোলার সুযোগ দেননি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করেছিল। আজ জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার আদর্শকে বুকে নিয়ে, পিতার স্বপ্ন পূরণের জন্য এ দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

চৌধুরী কামরুল হাসান ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে ইটনা উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেন। 

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img