প্রচ্ছদ জাতীয় প্রশাসন পিরামিড স্বাভাবিক হওয়ার পথে

প্রশাসন পিরামিড স্বাভাবিক হওয়ার পথে

0
28
প্রশাসন পিরামিড স্বাভাবিক হওয়ার পথে
প্রশাসন পিরামিড স্বাভাবিক হওয়ার পথে

প্রশাসন পিরামিডকে স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ফের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি হতে যাচ্ছে। সঙ্গে থাকছে উপসচিব পদের পদোন্নতিও।

এ যাত্রায় ২১ ব্যাচকে যুগ্মসচিব এবং ২৮ ব্যাচকে উপসচিব পদোন্নতি দেওয়া হবে। এই পদোন্নতির সুপারিশ চ‚ড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে এক দফা বৈঠক করেছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)। সূত্রগুলো বলছে, আরও অন্তত তিন দফা বৈঠকের পর সুপারিশ চ‚ড়ান্ত হতে পারে। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, দুই ধাপে এই পদোন্নতি হওয়ার পর ২৫তম ব্যাচ থেকে ডিসি পদায়নের পথও সুগম হবে। ২১তম ব্যাচের ডিসিদের প্রত্যাহার করে ডিসি পদে নতুন পদায়ন ও প্রয়োজনে রদবদলও করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন,এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে প্রশাসনে জাতীয় নির্বাচনমুখী নতুন রোডম্যাপের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হবে।

এদিকে গতিশীল প্রশাসনের স্বার্থে কম সময়ের ব্যবধানে যুগ্মসচিব পদোন্নতিকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চান না প্রশাসনসংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক মহল। তারা মনে করেন, বড় বড় ব্যাচের চাপে একসময় প্রশাসন পিরামিড কাঠামো একরকম ভেঙে পড়েছিল। সঙ্গে ভর করেছিল রাজনৈতিক বিবেচনায় ওএসডি এবং পদোন্নতিবঞ্চনার রেকর্ড। পদোন্নতিবঞ্চনা নিয়ে এখনো নানা রকম অভিযোগ থাকলেও গত কয়েক বছরে যথাসময়ে পদোন্নতি দেওয়ার প্রচেষ্টা বিলম্বিত পদোন্নতি যন্ত্রণার কষ্ট অনেকখানি লাঘব করেছে। এসব বিবেচনায় গেল জুনে একদফা পদোন্নতি দেওয়ার পর এখন আবার ২১তম ব্যাচের যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগকে কেউ নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন না।

সূত্র জানায়, উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে ২৮তম ব্যাচকে। এ ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারের ১৬৪ এবং বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডার থেকে একীভ‚ত হওয়া ৩৬ জনসহ ২০০ জন সিনিয়র সহকারী সচিবকে পদোন্নতি বিবেচনার কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ উপসচিব পদে পদোন্নতি হয় ২০২১ সালের ৭ মার্চ। এদিন পদোন্নতি দেওয়া হয় ৩৫৯ জনকে। এর মধ্যে নিয়মিত ব্যাচ হিসাবে ২৭তম ব্যাচ থেকে পদোন্নতি পান ১৮২ জন।

অপরদিকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য ২১তম বিসিএস থেকে প্রস্তাবিত তালিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এখানে প্রশাসন ক্যাডারের ১৫২ জন উপসচিব এবং বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডার থেকে যুক্ত হয়েছেন আরও ৯ জন।

মোট ১৬১ জনের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে পদোন্নতির জন্য যোগ্যদের নাম সুপারিশ করবে এসএসবি। ২১তম ব্যাচকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর। ফলে উপসচিব পদে প্রায় ৬ বছর পার করার পর তারা যুগ্মসচিব হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পদোন্নতি বিধিমালার ২(ক)-(অ) অনুযায়ী যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেতে উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছরের চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসাবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

এছাড়া ২(ক)-(আ) অনুযায়ী উপসচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ অন্যূন ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিধিমালা অনুযায়ী ২১তম ব্যাচ এক হিসাবে যথাযথ সময়ে পদোন্নতি পেতে যাচ্ছে। কেননা উপসচিব পদে ৫ বছর পার করে এ ব্যাচের কর্মকর্তারা এখন ৬ বছরের শেষদিকে অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি হয় গত ২৯ জুন। এদিন ৮২ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০তম ব্যাচের অবশিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন ৩৭ জন। এছাড়া ইকোনমিক ক্যাডারের ২৮ জন। তবে ২০তম ব্যাচ থেকে প্রথম দফায় পদোন্নতি দেওয়া হয় ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর। পদোন্নতি পান ২১৩ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাধারণত একটি পদে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার পদোন্নতি দেওয়া হয় না। অনেক আগে থেকে অলিখিত এই নীতি ফলো করা হয়। যদিও ব্যাচ ধরে পদোন্নতি দেওয়ারও কোনো লিখিত নীতি বা নিয়ম নেই। কেউ পদোন্নতিযোগ্য হলেই শূন্যপদ থাকা সাপেক্ষে পদোন্নতি দেওয়ার কথা।

তবে ৬৫০ জনের ৮২ বিশেষ ব্যাচ, ৪৫০ জনের ৮৪ ব্যাচ এবং ৫৫০ জনের ৮৫ ব্যাচের মতো বড় ব্যাচগুলোর কারণে একসময় প্রশাসনে সময়মতো পদোন্নতি পাওয়া ছিল আকাশকুসুম ব্যাপার। যে কারণে প্রথম ধাপে উপসচিব পদে পদোন্নতি পেতে অনেকের ১৮ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। যদিও এখন প্রশাসনে ৮২ বিশেষ ব্যাচের কেউ নেই। ৮৪, ৮৫ ও ৮৬ ব্যাচের হাতে গোনা কয়েকজন আছেন।

কেউ আছেন চুক্তি নিয়োগে। তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে আগের সেই দুর্দিন এখন আর নেই। একসময় ভেঙে পড়া প্রশাসন পিরামিড গত কয়েক বছর থেকে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রতিটি স্তরে পদোন্নতির জন্য অপেক্ষার প্রহরও অনেকটা কমে গেছে। ভবিষ্যতে যাতে একেবারে যথাযথ সময়ের মধ্যে প্রতিটি ব্যাচকে পদোন্নতি দিয়ে প্রশাসনে আরও গতিশীলতা আনা যায়, এসএসবি সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এমনটিই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, এটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। তারা মনে করেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রশাসনে কাজ এবং গুণগত মানের গতি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নিয়মিত ব্যাচের সময়মতো পদোন্নতির পাশাপাশি লেফটআউট তালিকা থেকে যাদের পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ যথার্থ বা যুক্তিসংগত, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।