31 C
Dhaka

বখাটেদের দখলে শিমুলিয়া ঘাট, নিরাপত্তাহীনতায় দর্শনার্থীরা

প্রকাশিত:

এক সময়ের ব্যস্ততম শিমুলিয়া ঘাট। সরগরম ফেরি পারাপার ও লঞ্চ, ম্পিডবোটে দক্ষিণবঙ্গগামী হাজারো যাত্রী দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টা চলাচল করতেন এই ঘাট দিয়েই। ছিল যাত্রী পারাপারের বিড়ম্বনা বছর জুড়ে। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বদলে যায় চিত্র। বন্ধ হয়ে যায় ঘাটে ফেরি চলাচল। লঞ্চ, স্পিডবোটও আর চলে না।

শিমুলিয়া ঘাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও কমে যায়। আর এই সুযোগে চুরি, ছিনতাই, জুয়া ও বখাটেদের অভয়াশ্রম হয়ে ওঠে শিমুলিয়া ঘাট। এখন এই ঘাট পুরোপুরি বখাটেদের দখলে। এতে করে সেখানকার দর্শনার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নৌ-পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ-কেউই আর ঘাটের নিরাপত্তার দায়িত্বে নেই। তাই এখন অনেকটা অরক্ষিত শিমুলিয়া ঘাট পদ্মা সেতু দেখতে আসা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ প্রতিদিন আসেন শিমুলিয়া ঘাটে। এখানে রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া-দাওয়া সারেন।

দর্শনার্থী-তরুণরা জুয়াড়িদের পাল্লায় পড়ে সর্বশান্ত হয়ে ফিরে যান। এখানে হারিকেনের ফিতার সাহায্যে জুয়া খেলা হয়। কেউ জিতলেও কলাকৌশলে তার টাকা রেখে দেয় জুয়াড়িরা। টাকা না থাকলে মুঠোফোন কিংবা সোনার চেইন কেড়ে নেয় তারা। প্রতিবাদ করলে মারধর ও অপদস্থ হতে হয়।

সম্প্রতি কালিগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা সেলিম তার শখের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন খোয়ান জুয়াড়িদের কাছে। একই দিন শিমুলিয়া ঘাটের যাত্রী ছাউনিতে সমকালের লৌহজং প্রতিনিধি মিজানুর রহমান ঝিলু জুয়া খেলার ছবি তুলতে গেলে তার ক্যামেরা কেড়ে নেয় জুয়াড়িরা।

এ সময় ৮-১০ জন জুয়াড়ি দলবদ্ধভাবে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং প্রাণে মেরে তার লা-শ পদ্মা নদীতে ফেলার হুমকি দেয়। সে সময় সাংবাদিক ঝিলুর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে জুয়াড়িরা সটকে পড়ে। এ যাত্রায় বেঁচে যান ঝিলু।

এ ঘটনায় শিমুলিয়া ঘাটের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘাটের ভিতরে নৌ-পুলিশের ফাঁড়ি থাকলেও সাংবাদিক ঝিলুকে রক্ষায় কোনো সদস্য ঘটনাস্থলে আসেননি। এমনকি পদ্মা সেতু উত্তর থানায় ফোনে খবর দিলেও প্রায় এক ঘণ্টা পরে পুলিশ হাজির হয়। ততক্ষণে অপরাধীরা পালিয়ে যায়।

শিমুলিয়া ঘাটের নিরাপত্তা নিয়ে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি আলমগীর হোসাইন বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে অতিক্রম করার সময় অনেক ভিআইপিকে প্রটোকল দিতে হয়। তাছাড়া আমাদের লোকবল কম থাকায় শিমুলিয়া ঘাটে সবসময় নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয় না।

মাওয়া নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্নাফ আলী জানান, এখন মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলছে। তাই বেশির ভাগ সময় নৌ-পুলিশকে নদীতেই থাকতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, শিমুলিয়া ঘাটে জুয়া খেলা পরিচালনার মূল হোতা উপজেলার কুমারভোগ গ্রামের মতি মাদবরের ছেলে সুমন ও একই গ্রামের শামীম। সুমন অত্যন্ত বেপরোয়া ও ভয়ংকর। ঘাট যখন সচল ছিল তখন সে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করাত তার বাহিনী দিয়ে। পুলিশ সুমনের কাছ থেকে বেশ কয়েকবার যাত্রীদের ছিনতাই হওয়া টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস ধরে শিমুলিয়া ঘাটে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা চলছে। পুলিশ জেনেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে তাদের দাবি। সুমনের বাবা মতি মাদবর একজন চিহ্নিত বালুদস্যু। অল্প সময়ের মধ্যে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। তার ছেলেরা বাবার অবৈধ টাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সুমন শিমুলিয়া ঘাটের সব রকম অপরাধের সাথে জড়িত।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img