28 C
Dhaka

বিএনপির কালচার আ.লীগে ঢুকেছে : আ.লীগ নেতার বক্তব্য ভাইরাল

প্রকাশিত:

বরগুনার বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে সামনে রেখে উপজেলার সকল ইউনিটের নতুন কমিটি গোছাতে তোড়জোর শুরু করেছে নেতৃবৃন্দ। একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বেতাগী উপজেলার পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।

তবে গত ৪ সেপ্টেম্বর বেতাগী সদর ইউনিয়নের আয়োজিত ত্রি- বার্ষিক সম্মেলনে বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম পিন্টু বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমন কিছু তথ্য উন্মোচন করেন যা বেতাগীতে আলোচনার শীর্ষে।

সম্মেলন শেষ হওয়ার তিন দিন পর ১৪ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে ও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ভিডিও বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট বলেন বিএনপির কালচার এখন আওয়ামী লীগে ঢুকেছে। শুধুমাত্র উপজেলার ৮টি ইউনিটের ৭২টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৭২ লক্ষ টাকার বাণিজ্য হয়েছে। কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকার বাণিজ্য করেছেন উপজেলার অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

তিনি আরো বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে তৃণমূলে সঠিক নেতৃত্ব সৃষ্টিতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন করা হয়, নেতা তৈরি করা হয়। কিন্তু এই সুযোগে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা কমিটিতে পদ পাইয়ে দেয়ার নামে ৭২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিএনপির আমলনামা নিয়ে সমালোচনা করে এসেছি। আজ কেন আওয়ামী লীগ টাকার কাছে বিক্রি হবে? কেনো বিএনপির কালচার আমাদের মধ্যে আসবে?

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র এবিএম গোলাম কবির, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকানসহ পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অতি দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুণ। তা না হলে এমন চলতে থাকলে আগামীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের রাজনীতি পিছিয়ে পড়বে এবং একদিন বিএনপির থেকেও দুর্দিন হবে আমাদের। কিছু লোকের স্বার্থ উদ্ধারে স্বাধীনতা বিরোধি লোকদের দলে এনে সব ঘোলাটে করা হয়েছে। নেতাদের বাসায় টাকার খাম আর বড় বড় উপহার আসতেছে। এসব বন্ধ করান। আপনাদের মাধ্যমে আমি বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাছানুর রহমান রিমনসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, যেন এই ৭২ লাখ টাকা বাণিজ্যের একটা সুষ্ঠু বিচার হয়।

গত ১৭ এপ্রিল উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হয়। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ৭২টি ওয়ার্ড কমিটি করতে শুরু হয় সম্মেলন। নতুন কমিটিতে পদ পেতে সরগরম হয়ে ওঠে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। ওয়ার্ড থেকে শহরে দেখা যায় পদ প্রত্যাশী নেতাদের কর্মী বহর, মিছিল। তবে যতটা আমেজ, ঠিক ততটাই এখন সমালোচনা। ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ বলছেন, সম্মেলন আসলেই নেতাদের হিড়িক পড়ে যায়। পদ পাওয়া শেষে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সঠিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের ঘাটতি। সম্মেলন হলেও অনেক ওয়ার্ড কমিটি প্রকাশ না করায় ক্ষোভ বিরাজ করছে অনেক প্রার্থীর মাঝে। এছাড়াও সাংগঠনিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ওঠে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম পিন্টুর বক্তব্যের পর ব্যাপকভাবে সমালোচিত বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বক্তব্যের কারণ জানতে চাইলে বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম পিন্টু বলেন, একটি ওয়ার্ডের রাজনীতে করে একজন নেতা কি পায়? সেখানে যদি তার পদ পেতেই লাখ টাকা গুণতে হয়। আমার বক্তব্যে আমি যা বলার বলে দিয়েছি। আমি প্রমাণ ছাড়া কথা বলি না। এখন যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃৃন্দ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আমি প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করবো।

পদ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম গোলাম কবির বলেন, এমন বক্তব্য শোনার পর থেকে আমি খুব ব্যথিত, মর্মাহত ও লজ্জিত। তাই এ ব্যাপারে এখনই কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। সম্মেলনের মাঝে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম পিন্টু কেন এমন বক্তব্য রাখলো এ ব্যাপারে আগে জানবো। আর অতি দ্রুত জেলা আওয়ামী লীগ ও ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img