28 C
Dhaka

মহানবীকে নিয়ে কটুক্তির ঘটনায় সংঘর্ষে যুবক নিহত, গ্রেফতার ৪

প্রকাশিত:

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তির ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী থানার ভানোর ইউনিয়নে শাকিল হত্যা মামলার অন্যতম আসামী দেলোয়ার ও শামীমসহ ৪ জনকে ঢাকার বংশাল, মোহাম্মদপুর ও সাভার এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সাবির্ক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, অপহরণ ও হত্যাসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামীদের গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াাডাঙ্গী থানায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে কটুক্তি করাকে কেন্দ্র করে গত ৩ সেপ্টেম্বর হলুদবাড়ী হাট ভূমি অফিসের দক্ষিণ পার্শ্বে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে শাকিল আহমেদ (২৭) নামে এক ব্যক্তিসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকিলসহ ৩ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করেন।

ওই ঘটনায় মোঃ সাইদ আলম (৩৯) বাদী হয়ে দেলোয়ার ও শামীমসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৪। তারিখ- ০৪/০৯/২০২২। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭১/৩৫৪/ ১১৪/৫০৬ দন্ড বিধি। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার সাথে জড়িত দেলোয়ার ও শামীমসহ তাদের সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যায়।

ঘটনার একদিন পর ৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক সকাল ০৭:৩০ মিনিটে শাকিল আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শাকিল আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে পেনাল কোড ৩০২ ধারায় নথিভুক্ত করার জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন দাখিল করেন।

মহানবীকে কটুক্তি করাকে কেন্দ্র করে শাকিল হত্যার সংবাদটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর ঘটনাটি ঠাকুগাঁওসহ দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ওই হত্যাকান্ডের সংবাদ পেয়ে র‌্যাব ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার বংশাল থানাধীন আরমানিটোলা এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে হত্যা মামলার ২ নং এজাহারনামীয় অন্যতম পলাতক আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৪৫) কে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত দেলোয়ারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১০ এর একই আভিযানিক দল ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন হেমায়েতপুরের ঋষি পাড়া এলাকা থেকে আরেক আসামী মোঃ হাবিব হোসেন (২৪) কে গ্রেফতার করে। পরে দেলোয়ার ও হাবিবের দেয়া তথ্যমতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন নবীনগর হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অপর একটি অভিযান পরিচালনা করে মামলার ৩ নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামী মোঃ শামীম হোসেন ওরফ সামিউম বাছির (২০) সহ আরেক আসামী মোঃ জসিম উদ্দিন (৩৪) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলিউড জানানো হয়েছে র‌্যাবের পক্ষ থেকে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img