31 C
Dhaka

মাগুরায় বিএনপির সমাবেশে হামলা অগ্নিসংযোগ, পুলিশসহ আহত ১২

প্রকাশিত:

মাগুরায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির সমাবেশে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করলেও ছাত্রলীগ নেতারা বিএনপিকেই দায়ী করেছেন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকালে শহরের ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর উপস্থিতিতে সমাবেশ চলছিল। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন খান বক্তব্য রাখার সময় বিএনপি অফিসে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুরের পাশাপাশি ৫টি মোটরসাইকেল এবং দুটি ইজিবাইকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর মধ্যে এক সংবাদকর্মীর মোটরসাইকেলও রয়েছে।

এদিকে শহরের ভায়না এলাকা থেকে বিএনপি কর্মীরাও জোটবদ্ধ হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে বিএনপি অফিস ঘিরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ভাংচুর এবং ধাওয়া পালটা ধাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয়পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে একজন এসআই, দুই কনস্টেবল এবং ইভান, অন্তর ও আমিন নামে ৩ ছাত্রলীগ কর্মী এবং ছাত্রদলের ৯ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এ সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সশস্ত্র ছাত্রলীগ কর্মীরা শহরে প্রবেশ করেন।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম বলেন, পৌর এলাকার ১নং ও ২নং ওয়ার্ডে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠান শেষে শহরে প্রবেশের সময় বিএনপি অফিস থেকে আমাদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করা হয়; যার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কর্মীরাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিএনপি অফিসে হামলা ভাংচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী শান্তিপূর্ণ দলীয় সমাবেশে হামলাকে আওয়ামী লীগের দেউলিয়াত্ব বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপির নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয় ইটখোলা এলাকায়। কিন্তু সেখানে অনুমতি না পাওয়ায় পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষেই দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ চলছিল। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যুবলীগ ছাত্রলীগের কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাংচুর চালিয়েছে। এটি ফ্যাসিবাদী সরকারের উদাহরণ।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহম্মদ কলিমুল্লাহ বলেন, ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের কর্মীরা মিছিল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img