33 C
Dhaka

মানিকগঞ্জে জাতীয় শোক দিবসে পতাকা উত্তোলনে অনিয়ম

প্রকাশিত:

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনে অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। দুটি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ম লঙ্ঘন করে একই দন্ডে কালো পতাকার নিচে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অন্য কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদসহ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পৃথক দন্ডে জাতীয় পতাকা এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হলেও মানা হয়নি পতাকা উত্তোলনের সঠিক নিয়ম।

পতাকা উত্তোলনের সঠিক নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা আলাদা দন্ডে উত্তোলন করতে হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার পর কালো পতাকা জাতীয় পতাকার নিচে রাখতে হবে। জাতীয় শোক দিবসে যে দন্ডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় তার ওপরের অংশ থেকে পতাকার প্রস্থের সমান নিচে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হয়। অথচ এসব কোনো নিয়মই মানা হয়নি উপজেলার গালা, চালা, গোপীনাথপুর ও বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদে।

১৫ আগস্ট, সোমবার সকালে হরিরামপুরের বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাতীয় শোক দিবসে হরিরামপুর উপজেলার চালা ও গালা ইউনিয়ন পরিষদে একটি দন্ডেই কালো পতাকা এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। দন্ডের উপরে কালো পতাকা ও কালো পতাকার ৩ থেকে ৪ হাত নিচে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে যা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়মের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।

এছাড়া গোপীনাথপুর ও বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, পৃথক দন্ডে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হলেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঠিক নিয়ম মানা হয়নি। কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকার ওপরে।

এ বিষয়ে অনেকে মন্তব্য করেন, শোক দিবসে জাতীয় পতাকা এবং কালো পতাকা উত্তোলনের সঠিক নিয়ম জনপ্রতিনিধিসহ রাজনীতিকরাও অনেকে জানেন না।

এ ব্যাপারে গোপীনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মোল্লা (লাভলু) ভুল স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখারও আশ্বাস দেন তিনি। বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদুর রহমান বলেন, আমি উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিলাম। চৌকিদার পতাকা উত্তোলন করেছে। আমি কিছু জানি না। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

গালা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিক বিশ্বাস বলেন, আমার পারিবারিক কাজ থাকায় সকালে আমি পরিষদে যেতে পারিনি। এখানে কাঙ্গালি ভোজের আয়োজন করার জন্য আগের রাতেই আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহেবকে পরিষদের রুমের চাবি দিয়েছি। এছাড়া দুজন চৌকিদারকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছিলাম। তারাই হয়তো ভুল করে এক দণ্ডে দুটি পতাকা উত্তোলন করেছে। বিষয়টি জানার পর দ্রুত সংশোধন করার ব্যবস্থা নিয়েছি।

এদিকে এক দন্ডে পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন চালা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মজিদ। তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। রাগান্বিত কণ্ঠে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এক দণ্ডে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় পতাকা যাতে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় সেজন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img