27 C
Dhaka

মিশরে হিজাব পরা নারীরা বৈষম্যের শিকার

প্রকাশিত:

মিশরে হিজাবি নারীরা নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এই প্রবণতা মিশরের সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল- যেখানে ধর্ম, লিঙ্গ, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থান দেখে কোনরকম বৈষম্য করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

মিশরের অনেক নারী ২০১৫ সাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করছেন যে, হিজাব পরার কারণে তারা এ ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এরকম একজন কায়রোর একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২৫ বছর বয়সী নির্বাহী কর্মকর্তা মায়ার ওমর। তিনি বলছেন, বেশ কয়েকটি দামী রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে তিনি এরকম সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

তিনি বলেন, আপনি হয়তো কোন অনুষ্ঠানে গেলেন, কিন্তু কেউ আপনাকে কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না, তখন আপনার একাকী মনে হবে। অথবা আপনার হয়তো মনে হতে শুরু করবে যে, আপনি বন্ধু বা অন্যদের সমস্যায় ফেলেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে হিজাব বিষয়ক একটি গ্রুপের মাধ্যমে দেখা গেছে, হিজাব পরার কারণে মিশরের নারীরা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, এমন প্রবণতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র হিজাব পরার কারণে তাদের অনেক স্থানে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

আইনজীবী এবং নারী অধিকার কর্মী নাদা নাশাত বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে মূল কারণটি হলো, শ্রেণি বিভাজন করে ফেলা। যেসব অনুষ্ঠানস্থলে হিজাবি নারীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি, তারা নিজেদের উচ্চ মধ্যবিত্ত বা উচ্চ বিত্ত হিসাবে উপস্থাপন করতে চায়। তবে হিজাব পরে না, এমন নিম্নবিত্ত নারীদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য করতে দেখেছি।

কায়রোয় যেসব কেন্দ্রের বিরুদ্ধে হিজাব পরা নারীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে, এরকম ১৫টি কেন্দ্রে বুকিং দেয়ার সময় বেশিরভাগ কেন্দ্র থেকে অতিথিদের সামাজিক মাধ্যম প্রোফাইলের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ১১টি প্রতিষ্ঠান থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, মাথা ঢেকে কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

যামালেক এলাকায় এল’অবারজিন নামে এক রেস্তোরাঁর রক্ষী ঢোকার মুখেই সাফ জানিয়ে দেন, মাথায় হিজাব পরে সেখানে প্রবেশ করা যাবে না। কারণ ভেতরে একটি মদের দোকান রয়েছে, ফলে হিজাব পরা কোন নারীকে সেখানে যেতে দেওয়া হয় না।

এমনকি ম্যানেজার এসে জানিয়ে দেন, এখানে মাথায় কাপড় দেয়া নিষিদ্ধ।

পরবর্তীতে এসব আলাপের রেকর্ডিং যখন তাদের শুনানো হয়, এল’অবারজিন দাবি করে, এটি পুরোপুরি সত্য না এবং হিজাব পরা নারীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ার কোন নীতি তাদের প্রতিষ্ঠানের নেই। তবে তারা বলছে, আমরা এটিকে নিরুৎসাহিত করি।

নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা মিশরীয় সংসদ সদস্য আমিরা সাবের বলেছেন, মিশরের সংবিধানে পরিষ্কার করে বলে দেয়া আছে- এরকম বৈষম্য কারও সঙ্গে করা যাবে না।

তিনি বলেন, আমার পার্লামেন্টারি ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে আমি জানতে চাইবো, কীভাবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা যায়। এরপরও যদি তা ঘটে, তাহলে অবশ্যই দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img