31 C
Dhaka

মুন্সীগঞ্জে চালককে হ-ত্যা করে ইজিবাইক লুণ্ঠনকারী ঢাকায় আটক

প্রকাশিত:

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে চাঞ্চল্যকর ইজিবাইক চালককে গ-লা কে-টে হ-ত্যা-র মূল পরিকল্পনাকারী ও হ-ত্যা-কা-রী-কে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০। এসময় ইজিবাইক চোর চক্রের আরেকজন সদস্যকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব-১০। এছাড়া ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে লুন্ঠনকৃত ইজিবাইকটি উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১০ এর চৌকস আভিযানিক দল।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সাবির্ক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, অপহরণ এবং হত্যাসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামীদের গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে যা দেশের প্রায় সকল মহলেই প্রশংসিত হয়েছে।

গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ইতোমধ্যে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জনগণের ভরসা স্থলে পরিণত হয়েছে এলিট ফোর্স র‌্যাব।

চলতি বছরের ১ জুলাই তারিখ বিকেলে আরশাদ নামের একজন ইজিবাইক চালক প্রতিদিনের মতো যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে ইজিবাইক নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সেদিন রাতে আরশাদ বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুজি করতে থাকে। কিন্তু আরশাদকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।

পরদিন সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানাধীন পশ্চিম রাজদিয়া (লালবাড়ি) এলাকায় পরে থাকা একটি অজ্ঞাত লা-শে-র সংবাদ পায় আরশাদের পরিবারের লোকজন। তারা ওই লা-শে-র সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, আরশাদকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত, উরু, পেট ও গ-লা কে-টে হ-ত্যা করে রেখেছে। আরশাদের লা-শ পাওয়া গেলেও তার ইজিবাইকটি ছিলো না।

পরবর্তী সময়ে আরশাদের পরিবারের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।

ওই ঘটনার পর আরশাদের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৪০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সিরাজদীখান থানায় একটি হ-ত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২, তারিখ- ২ জুলাই, ২০২২, ধারা- ৩৯৪/৩০২ পেনাল কোড।

ইজিবাইক চালক আরশাদ হ-ত্যা-র খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। র‌্যাব ওই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১২ নভেম্বর তারিখে র‌্যাব-১০ এর চৌকস আভিযানিক দল রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন খোলামোড়া নৌকাঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ইজিবাইক চালক আরশাদের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনা এবং হত্যাকারী শাকিব মোল্লা কাউসার (২২) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরশাদ হত্যাকান্ডের সাথে নিজের সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করে শাকিব। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১২ নভেম্বর কামরাঙ্গীরচর থানাধীন পূর্ব রসূলপুর ৪ নং গলি এলাকায় অপর একটি অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১০। অভিযানে ইজিবাইক চোর চক্রের অপর এক সদস্য মোঃ শাহ আলম (৪২) কে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৬টি চোরাই ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।

এরপর গ্রেফতারকৃত শাকিব ও শাহ আলমকে ভিকটিম আরশাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ইজিবাইক সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, ইজিবাইকটি তাদের চক্রের অপর সদস্য মো. রাকিব (২৮) এর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ইজি বাইকসহ রাকিব তার নিজ বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন বাকুরিয়া পাড়ায় চলে গেছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী র‌্যাব-১০ এর একই আভিযানিক দল রোববার, ১৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন বাকুরিয়া পাড়া এলাকায় অপর একটি অভিযান পরিচালনা করে প্রয়াত আরশাদের লুণ্ঠনকৃত ইজিবাইকটি উদ্ধার করে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-১০।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img