31 C
Dhaka

ময়মনসিংহে অপচিকিৎসায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশিত:

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কবিরাজের অপচিকিৎসায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম লিমা আক্তার তামান্না (১৪)। মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। সে জাটিয়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং জাটিয়া ইউনিয়নের ভাসাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে।

জানা যায়, তামান্না দীর্ঘদিন ধরে কোমড় ব্যথায় ভুগছিল। তাকে বিভিন্ন সময় ডাক্তারি চিকিৎসা করানো হয়। এরই মধ্যে আমেনা খাতুন (৫৫) নামে এক নারী কবিরাজের খোঁজ পায় তার পরিবার। আমেনার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুর। ওই নারীর মেয়ের বাড়ি ভাসাটি গ্রামে হওয়ায় এখানে আসা যাওয়া এবং এই এলাকার অনেকের চিকিৎসা করতেন।

মেয়ের চিকিৎসায় তামান্নার বাবা রশিদও দ্বারস্থ হন এই নারী কবিরাজের। পাঁচ হাজার টাকা চুক্তিতে গত শনিবার থেকে চিকিৎসা শুরু হয়। তাবিজ-কবজ ও ঝাড়ফুঁকের পাশাপাশি মুখে হাত চাপা দিয়ে রাতে ধূপ, আগরবাতি, কাপড়ের শলতে, গন্ধক, চুনসহ অনেককিছু দিয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি করে রোগীর নাক দিয়ে শোকানো হয়। সোমবার রাতভর ধোঁয়ার নিশ্বাস নেওয়ানো হলে মঙ্গলবার সকালে মেয়েটির অবস্থা খারাপের দিকে যায়। এরপর তাকে প্রথমে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।

নিহতের বাবা আব্দুর রশিদের বলেন, কবিরাজের চিকিৎসা করিয়ে ভুল করেছি। ভালো করতে গিয়ে মেয়ের মৃত্যু হলো। মেয়ের মৃত্যুর জন্য নিজের ভাগ্যকেই দোষারোপ করেন তিনি।

এদিকে মেয়েটির মৃত্যুর খবরে পালিয়েছেন ওই নারী কবিরাজ। তবে তার মেয়ে আকলিমা আক্তার দাবি করেন, তার মা এলাকার অনেক জঠিল রোগীর চিকিৎসা করে সুস্থ করেছেন। তামান্নার মৃত্যুতে তার মায়ের কোনো দোষ নেই।

স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান আকন্দ হলুদ বলেন, ধোঁয়ার নিশ্বাস গ্রহণ করিয়ে চিকিৎসার নামে মেয়েটির ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। যার কারণে এমন মৃত্যু হয়েছে আমাদের ধারণা। এ ধরনের অপচিকিৎসা বন্ধ হওয়া উচিৎ।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নীতি বলেন, মেয়েটিকে সকালে ডা. মুনমুন রিসিভ করেন। ওই সময় মেয়টির শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ছটফট করছিল। ধারণা করা হয়েছিল সেপ্টিটিসেমিয়ায় আক্রান্ত (ফুসফুস, কিডনি, খাদ্যনালি বা অন্য যে কোনো অঙ্গের সংক্রমণ যখন রক্তে প্রবেশ করে, তখন তাকে বলা হয় সেপ্টিসেমিয়া)। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলে রেফার করা হয়। কবিরাজি চিকিৎসার কারণে এমনটি হতে পারে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাছিনুর রহমান আজ রাত পৌনে ৯টায় জানান, ঘটনার বিস্তারিত জানতে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। পরে ফোন করা হলে বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। লাশও দাফন হয়ে গেছে। মেয়েটি তিনমাস ধরে অসুস্থ ছিলো। তবুও তারা সবকিছু যাচাই করছেন।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img