32 C
Dhaka

র-ক্তা-ক্ত ধ-র্ষি-তা শিশুর আর্তনাদ : চাচ্চুরা আমাকে অনেক মেরেছে

প্রকাশিত:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মাত্র তিন বছরের এক শিশুকে ধ-র্ষ-ণে-র ঘটনা আমলে না নিয়ে উল্টো দুই কিশোর আসামিকে ফোন দিয়ে মামলার কথা জানিয়ে পালানোর সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মুরাদনগর থানার এসআই বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার হৃদয়‌বিদারক বর্ণনা দিয়ে ভিক‌টিম শিশুটির বাবা বলেন, আমি আমার মুরাদনগর সদরের বাসা থেকে ৩ বছরের একমাত্র মেয়েকে উপজেলার পাহারপুর গ্রামে নানার বাড়িতে দিয়ে আসি। একই‌দিন তাকে নিয়ে আসার কথা থাকলেও জরুরি কাজ থাকায় পারিনি। পাহারপুর গ্রামে আমার মামাতো ভাই কামাল মিয়ার বা‌ড়ি। তার ছেলে সোহাগ মিয়া (১৬) ও শাহজাহানের ছেলে সাদেক মিয়া (১৭) প্রায়ই আমার বাসায় আসা-যাওয়া করতো। সেই সুবাদে তারা আমাকে ফোন দিয়ে বলে, আমার বাসায় আসবে। তখন আমি তাদের দুজনকে আমার মেয়েকে নিয়ে আসার কথা বলি।

ওরা (সোহাগ ও সাদেক) আমার বাসায় বিকেল ৪টায় আসার কথা থাকলেও সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসে মেয়েকে তারাহুড়া করে দিয়ে চলে যায়। সোহাগ ও সাদেক চলে যাওয়ার সাথে সাথে আমার মেয়ে তার গো-প-না-ঙ্গ ধরে কান্না করতে করতে বলে, চাচ্চুরা আমাকে দুই হাতে ধরে রেখে অনেক মেরেছে। তখন আমার স্ত্রীর সন্দেহ হলে মে‌য়ের কাপর খুলে দেখে রক্ত। মুরাদনগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চি‌কিৎসক জানান, আমার মেয়ের গো-প-না-ঙ্গে কিছু প্রবেশ করানো হয়েছে। যার ফলে সে ব্যথায় কাতরাচ্ছে।

পরে বিষয়টি নিয়ে আমি মুরাদনগর থানায় গেলে তারা আমাকে সকালে আসেন, বিকেলে আসেন বলে নানা অজুহাতে ঘুরাতে থাকে। এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় আমি আমার স্ত্রীসহ লিখিত অভিযোগ দি‌তে থানায় যাই। তখন থানায় কর্মরত এসআই বোরহান উদ্দিন আমাকে সহযোগিতা না করে উল্টো হয়রানি করতে থাকেন। আসামিদের না ধরে আমার সামনে তাদের ফোন করে মামলার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। অপরদিকে আমাকে মামলা রুজুর জন‌্য প‌রে আস‌তে বলা হয়।

খবর নিয়ে জানতে পারি, এসআই বোরহান উদ্দিন আসামীদের ফোন করে জানিয়ে দেয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এখন আমি আমার মেয়ের বিচার পাওয়া নিয়ে খুব শঙ্কায় আছি। কারণ যেখানে একজন পুলিশ হয়ে আসামিদের না ধরে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে সেখানে সুষ্ঠু বিচার পাবো কীভাবে আশা করি!

এদি‌কে অভিযুক্ত মুরাদনগর থানার এসআই বোরহান উদ্দিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো আসামি ভাগিয়ে দেইনি কিংবা ওই শিশুটির পরিবারের কাউকে কোনো প্রকার হয়রানিও করিনি। অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ফোন দিয়েছি। এখন যদি আসামি ভেগে যায় আমার কি করার আছে!

এ বিষ‌য়ে মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিযুষ চন্দ্র দাস বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুটি ও তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে মামলা রুজু করার জন্য মুরাদনগর থানাকে বলে দিয়েছি। শিশুটি ছোট হলেও সে নিজেই আমার কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়েছে যেটা আমি কখনোই আশা করিনি।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img