23 C
Dhaka

রাখে আল্লাহ, মারে কে,সুস্থ হয়ে উঠছেন নাড়ি-ভুড়ি বের হওয়া কবির

প্রকাশিত:

সারা শরীর রক্তাক্ত। পেট থেকে বের হয়ে আসা আস্ত নাড়ি- ভুড়ি ধরে আছেন বাম হাতে। যিনি বাঁচার জন্য আকুতি করে জীবন- মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে একটু সাহায্যের আশায়। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সীতাকুণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ বিএম ডিপোর অগ্নি বিস্ফোরণের পর এমন একটি বীভৎস ছবি ছড়িয়ে পড়েছিলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা মানুষের হৃদয়ে বেদনার ঝড় তুলেছিল। 

প্রিয় পাঠক, সারাদেশের মানুষের হৃদয়কে ব্যথিত করে তোলা সেই ছবিটি ছিল বিএম ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত শ্রমিক মো. কবিরের। সবাই ভেবেছিল নাড়ি- ভুড়ি বের হওয়া বিএম ডিপোর সেই অসহায় শ্রমিক কবির হয়ত বাঁচবেন না। কিন্তু রাখে আল্লাহ, মারে কে –  অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি ডাক্তার ও স্বাস্থ্যসেবীদের পরিশ্রমে তার পেটের ভুড়ি আবারও প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সুস্থ হয়ে উঠছেন আহত কবির। 

বিএম ডিপোর রাসায়নিক বিস্ফোরণে নাড়ি-ভুড়ি বের হয়ে আহত কবির ভোলার চরফ্যাশনের নীল কমল ইউনিয়নের বাসিন্দা।বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর সল্টগোলা ডুবুরি পুকুর পাড় এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করছেন। বিগত পাঁচ বছর যাবত তিনি বিএম ডিপোতে পণ্য খালাসের শ্রমিকের কাজ করছেন। 

চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমেরর সাথে সেই দিনের  ভয়াবহতার কথা জানিয়ে কবির বলেন, বিস্ফোরণের সময় আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম,  হঠাৎ করে কিছু একটা উড়ে এসে আমার শরীরে পড়ে, আঘাতে পেটের ডান পাশের ভুড়ি বের হয়ে আসে, কেটে যায় ডান হাতের চারটি আঙ্গুল। আমি যন্ত্রণায় কাতর হয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে চিৎকার করতে থাকি। তখন লোকজন আমাকে ধরাধরি করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। ভুড়ি চেপেই ধরেই আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে আসি। আমি ভেবেছিলাম হয়ত আর বাঁচব না। কিন্তু মহান আল্লাহর রহমতে চিকিৎসক ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় আমি এখন মোটামুটি সুস্থ হওয়ার পথে। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন কবির সুস্থ হলেও শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে পারবে না। তাই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে কি ভাবে বেঁচে থাকবেন সেই চিন্তায় নাড়ি-ভুড়ি বের হয়ে মৃত্যুর অতি কাছ থেকে ফিরে আসা আহত শ্রমিক কবিরের চোখগুলো অশ্রুতে ভেজে উঠে। 

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img