33 C
Dhaka

রেলস্টেশন ফুটওভারব্রিজ কেন মাদক সেবনের আখড়া!

প্রকাশিত:

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করেন না সাধারণ পথচারীরা। ওভারব্রিজের নিচে শুধুই মাদকসেবী ও ভবঘুরেদের আড্ডা। রীতিমতো মাদক সেবনের আখড়ায় পরিণত হয়েছে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন ফুট ওভারব্রিজ।

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার চার বছরেই সেটি ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের দখলে চলে গেছে। তাছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ফুট ওভারব্রিজটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হওয়ায় তা ব্যবহারে আগ্রহ হারিযেছেন পথচারীরা।

রেলবিভাগ ও স্থানীয়রা জানান, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রেল সড়কের গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলস্টেশন শ্রীপুর। এই স্টেশন ঘেঁষে রেল লাইন অতিক্রম করে গেছে শ্রীপুর-কাপাসিয়া সড়ক। ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় যানজটের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ এই সড়কের রেল লাইনের উপর একটি উড়াল সড়ক নির্মানের আবেদন করেন।কিন্তু রেল বিভাগ উড়াল সড়ক নির্মান না করে ২০১৬ সালে একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করেন।

অপরিকল্পিতভাবে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের কারণে তা সাধারণ পথচারীরা আর ব্যবহার করেনি। আর এ সুযোগে ফুট ওভারব্রিজটি পরিণত হয় ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের মাদক সেবনের আখড়ায়। ফুটওভারব্রিজ ঘিরে রেল স্টেশন এলাকায় অপরাধীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো নানা ধরনের অপরাধ।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ফুট ওভারব্রিজটির কোনো রকমের প্রয়োজনীয়তা এখানে ছিলো না। তারপরও এখানে সেটি নির্মাণ করায় সরকারে অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয়নি। সাধারণ পথচারীরা এটি ব্যবহার করেন না। সেই সুযোগে এখানে নিয়মিত আড্ডা বসায় মাদকসেবীরা। পাশাপাশি ভবঘুরেরা এখানে নিয়মিত অবস্থান করেন। মাদকসেবী ও ভবঘুরেদের অনেকে অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত।

অপরাধীদের আড্ডা থাকায় শ্রীপুর স্টেশন এলাকায় প্রায়ই যাত্রীদের মালামাল চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। নানা ধরনের অপরাধের সংখ্যাও বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে গাজীপুরের আজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম বলেন, এই ফুটওভারব্রিজটি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এর কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ট্রেন আসার সংকেত দেয়ার পর যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা হলেও পথচারীদের রেল সড়ক পার হতে কোনোই অসুবিধা হয় না। এসব কারণে এটি ব্যবহৃত হয় না। অব্যবহৃত ফুটওভারব্রিজটিতে ভবঘুরে আর মাদকসেবীরা নিয়মিত সকাল থেকে রাত অবধি আড্ডায় মেতে থাকে। রীতিমতো বিছানা পেতে তারা ফুটওভারব্রিজটি দখল করে রাখে। কেউ ভুলবশতও যদি ফুটওভারব্রিজে উঠে পড়ে তবে তাকে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হারুনুর রশিদ বলেন, এই ফুটওভারব্রিজটি নির্মাণের পর নানা কারণে পথচারীরা ব্যবহার করেননি। প্রকৃতপক্ষে এই ফুটওভারব্রিজের এখানে কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ নিচ দিয়েই সাধারণ পথচারীরা সহজেই পার হতে পারেন।

স্টেশন মাস্টার হারুনুর রশিদ আরও বলেন, ঠিক এই জায়গাতেই একটি ফ্লাই ওভার দরকার। ফুটওভারব্রিজটি পথচারীরা ব্যবহার না করায় বর্তমানে এটি ভবঘুরে মানুষের দখলে রয়েছে। স্টেশনের আশপাশের পুরো এলাকায় নিরাপত্তা দেয়ার মতো পর্যাপ্ত রেল পুলিশ নেই। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করারও আশ্বাস দেন স্টেশন মাস্টার হারুনুর রশিদ।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img