28 C
Dhaka

লালমনিরহাটে এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত:

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লালমনিরহাটের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফের সরকারী গাড়ি ব‌্যক্তিগত কা‌জে ব‌্যবহার, বিলাসবহুল জীবনযাপনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হ‌য়ে‌ছে।

সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ লালমনিরহাটে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিগত অর্থ বছরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হলেও অবৈধ অর্থ নিয়ে কতিপয় পছন্দের ঠিকাদারদের বিল প্রদানে সহযোগিতা করেছেন ব‌লে অ‌ভি‌যোগ পাওয়া গে‌ছে।

এলজিইডির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লালমনিরহাট এলজিইডি ভবনের নীচ তলায় সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর অফিস কক্ষ থাকলেও তিনি যোগদানের পরপরই প্রভাব খাটিয়ে দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ নতুন আঙ্গিকে সুস‌জ্জিত করে‌ছেন। এসি ছাড়াও দরজা-জানালায় থাইসহ দামী দামী পর্দা লাগা‌নো হয়েছে ‌সেই ক‌ক্ষে। তিনি সরকারী বরাদ্দের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদারদের কাছ থে‌কে লাখ লাখ টাকা নি‌য়ে অত্যাধুনিক এই অন্দরসজ্জা করেছেন ব‌লে অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন লালমনিরহাটে যোগদান করেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ। তিনি উক্ত অফিসে যোগদানের পর তার অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ ক‌রেন। এছাড়‌া বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি এলজিইডি লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর কাদের ইসলামসহ কাউকেই তি‌নি মানেন না। তার কাছে সবাই যেন একেবারে অসহায়! প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ ঠিক-ঠাক অফিস করেন না। তিনি তার ইচ্ছামতো চলাফেরা করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় হিসেবে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দেখভাল ও নজরদারির জন্য এলজিইডির
গাড়ি জেলার ভিতরে ব্যবহারের যৌক্তিকতা আছে। ত‌বে সেই গাড়ি ব্যবহারে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমতিক্রমে সহকারী প্রকৌশলীরা জেলার ভিতরে ব্যবহার করতে পারবেন। তাছাড়া সরকারিভাবে সহকারী প্রকৌশলীদের নামে কোনো গাড়ি বরাদ্দ নেই।

অথচ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ এলজিইডির দুদুটি গাড়ি বীরদর্পে ব্যবহার করছেন। গাড়ি দু‌টির চাবি, চালক ও মেকানিক্যাল ফোরম্যানের নিকট জমা রাখার বিধান থাকলেও তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজের কাছেই রাখেন। আব্দুল মান্নাফ চালকসহ সার্বক্ষণিক এলজিইডির গাড়ি ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ ঢাকা মেট্রো-হ-১১-৭৬১৪ নম্বর সরকারী গাড়িতে লালমনিরহাট থেকে পঞ্চগড়ে প্রতিমাসেই পরিবারকে নিয়ে ২০০ কিলোমিটার সড়ক পথ পাড়ি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। আবার সেই সরকারী গাড়িতে চড়ে গ্রামের বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরেন।

চলতি বছরের শুধুমাত্র জুলাই মাসেই ৫৬০ লিটার গাড়ির জ্বালানি খরচ ক‌রে‌ছেন তি‌নি। পাশাপা‌শি গা‌ড়ির চালক, মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে প্রতি মাসে অধিদপ্তরের প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করেন। অথচ ওই গাড়িতে ৫৬০ লিটার জ্বালানি তেল দিয়ে প্রায় ৪৪০০ কিঃ মিঃ পথ চলাচল করা সম্ভব। গাড়িতে রাখা লকবইটি জব্দ করলেই এসব ত‌থ্যের প্রমাণ মিলবে।

শুধু তাই নয়, ওই গাড়িতে চড়ে মাসে মাসে পরিবারসহ রংপুরে শপিং করা, মেয়ের স্কুল যাতায়াত, ব্যক্তিগত কাজে জেলার বাহিরে সফর, রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অহেতুক ঘোরাঘুরি করে সরকারি সম্পদ অপচয় করে চলছেন তি‌নি।

সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফের সরকারী গাড়ির য‌থেচ্ছ ব‌্যবহার, বিলাসবহুল জীবনযাপনের আয়ের উৎস কি- এসব নিয়ে নানান গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে খোদ এলজিইডি অঙ্গনে।

এই গুঞ্জনের পিছনে লুকিয়ে আ‌ছে বড় ধরনের দুর্নীতি। সেই দুর্নীতির ফিরিস্তি ঘাঁটতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প দেখভালের নামে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতা ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আব্দুল মান্নাফ যে মোবাইল ব্যবহার করেন তার একটির মূল্য ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। তার গায়ের পোশাক দামী, বাসায় দামী আসবাপত্র, স্ত্রী ও সন্তানদের চলাফেরা দেখলে মনে হয় তারা রাজা-বাদশার আমলীয় প্রতাপশালী।

এত বিলাসবহুল জীবন যাপনের অর্থ তার বেতনের টাকায় নয়, বরং এই অর্থের বড় এক‌টি অংশ তি‌নি আদায় করেন ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজের ভুল-ভাল ধরে। এভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বাড়ি-গাড়ি, নামে-বেনামে সম্পত্তিসহ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় এলজিইডির ঠিকাদার বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লালমনিরহাটের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফের উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে আমরা সন্তুষ্ট না। কারণ তার কাছে টাকাই সব। উপরের বড়কর্তার সাথে তার গভীর সক্ষতা রয়েছে। ফলে ক্ষমতার দাপটে উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে টাকা, কোনো ফাইলে স্বাক্ষর নিতে গেলেও টাকা দিতে হয়। কাজ নিম্নমানের হলেও কোনো সমস্যা নেই। আব্দুল মান্নাফকে টাকা দিলে সবই ভালো বলে স্বাক্ষর করেন। এমনিতে নির্মাণ সামগ্রীর দাম উর্দ্ধগতি, তার উপর আব্দুল মান্নাফের অনিয়ম-দুর্নীতিতে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লালমনিরহাটের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোন ধরেননি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর কাদের ইসলাম বলেন, সরকারি গাড়ি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img