18 C
Dhaka

সরকারি জায়গা দখল করে তিন তলা মার্কেট

প্রকাশিত:

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গোয়ালি মান্দ্রার সড়ক ও জনপদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে তিন তলা মার্কেট নির্মাণ চলছে। ইতোমধ্যে প্রথম তলার ছাদের ঢালাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লৌহজং উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইলিয়াস সিকদার বলেন, দুজন সার্ভেয়ার পাঠিয়েছি। তারা জায়গা মেপে জানানোর কথা। তিনি আরো বলেন, একজন লোক এসে তাকে জানিয়েছেন এই জায়গাটি মালিকানাধীন। সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে দেখে যদি সরকারি জায়গা হয় তবে আমরা আর কাজ করবো না। তিনি অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় যারা ভবন নির্মাণ করছে তাদের মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানাও চেয়েছেন।

লৌহজং উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইলিয়াস সিকদার বলেন, আমি নিজে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়ে আসছি। পরবর্তীতে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কারণে ওদিকে আর সময় দিতে পারিনি। সেই সুযোগে হয়তোবা বাকী কাজ করে ফেলেছে। যারা বিল্ডিং তৈরী করছে তাদেরকে ওখানে পাওয়া যায় না। কে বিল্ডিং তৈরী করছে তাও তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের সহযোগিতায় সরকারি জায়গায় ভবন নির্মাণ হওয়ায় মৌছা মান্দ্রা বাজার ও আশপাশের সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা বলেন, ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলা ছাদ হয়ে যায়। কেউ তার খবর রাখেন না। আবার খবর রাখলেও এর কোন সঠিক উত্তর মিলছে না। সরকারী ভূমি দখলের ঘটনাটি জ্বীনের বাদশাকেও যেন হার মানায়। রাতের আঁধারে সরকারী জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ হয়ে যাচ্ছে। অথচ কেউ মুখ খুলে বলছে না এই সড়কের পার্শ্বে কার এই ভবন?

স্থানীয়রা বলছেন, এই ভবন নির্মাণের পর অধিগ্রহণভুক্ত দেখিয়ে সরকারের ফান্ড থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ারও পাঁয়তারা হতে পারে বলে আশংকা করছেন তারা। এই কাজের সাথে বড় বড় রাঘোব বোয়াল জড়িত রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

মৌছা মান্দ্রা মৌজার, আর এস, ১ নং খাস খতিয়ানের আর এস দাগ ৩৯১ যা খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ১৫ দিন বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করলে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রীনগর থানার কুকুটিয়া ইউনিয়নের হাড়িয়া মুন্সী গ্রামের মৃত আঃ হাকিম বেপারীর পুত্র ফরহাদ বেপারী। ফরহাদ বেপারী নিজে কাজের সামনে না এসে লোক দিয়ে আড়ালে বসেই ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন। দূর থেকে কাজের তদারকি করছেন।

এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলার সার্ভেয়ার নজরুলকে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইলিয়াস সিকদার ডেকে আনলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, আমি যাইনি, সার্ভেয়ার সাইফুল গিয়েছেন। সার্ভেয়ার নজরুল ও সাইফুল দুজনই গিয়েছেন ওই ভূতের বিল্ডিং পরিদর্শনে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সাইফুল অসুস্থতার কথা বলে ছুটিতে, অপরজন কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) বলেন, আমি কাজের বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। কেউ বলতে পারেন না এই ভবন কে উঠাচ্ছে? এই ভবনের অংশ খাস খতিয়ান অন্তর্ভুক্ত বলেও জানান তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img