31 C
Dhaka

সিত্রাংয়ে তছনছ উপকূল: ১৩ জেলায় বেশি ক্ষতি

প্রকাশিত:

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে লন্ডডন্ড হলো হাজার হাজার বাড়িঘর, ক্ষতিগ্রস্ত হলো লাখ লাখ মানুষ। অনুমান করা সময়ের আগেই গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের মাঝামাঝি এলাকার উপকূলে আঘাত হানে সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার ভোর কিংবা সকালে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করার কথা সিত্রাংয়ের।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন গতকাল রাত ৮টার দিকে বলেন, সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উপকূল স্পর্শ করেছে সিত্রাংয়ের অগ্রভাগ। উপকূল স্পর্শ করে সিত্রাং অতিক্রম শুরু করছে। এখন জলোচ্ছ্বাস ও ভারী বর্ষণ হবে। এটা মাঝারি ধরনের ঘূর্ণিঝড়; বাতাসের গতিবেগ রয়েছে ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার।

মনোয়ার হোসেন বলেন, এটি মধ্যরাতে ভোলার পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম ও বরিশালের উপকূল দিয়ে আঘাত হানবে। তখন জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ভোররাতের দিকে সিত্রাংয়ের প্রভাব ক্রমশ কমে যাবে। তবে এর প্রভাবে দেশের উপকূলে এবং অন্যান্য অঞ্চলেও মঙ্গলবারও বৃষ্টি হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও নোয়াখালী এবং ওই এলাকার দ্বীপ ও চরগুলোকেও ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার উপকূল এবং সেখানকার চর ও দ্বীপগুলোকে ৬ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি সমন্বয়ে গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ৭ হাজার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫ লাখ মানুষ থাকতে পারবেন।

সিত্রাংয়ের যে বিস্তার, তাতে দক্ষিণাঞ্চলের ১৩ জেলায় এ ঝড় তা-ব চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রতিমন্ত্রী। জেলাগুলো হলো- বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ফেনী। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপ অঞ্চল মহেশখালী, হাতিয়া, সন্দ্বীপ এলাকাও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বরগুনা সদর, পাথরঘাটা ও পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বেশি পড়বে বলে মনে করছেন এনামুর রহমান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিডর ছিল সুপার সাইক্লোন, সিভিয়ার সাইক্লোনের পর আরেকটি স্তর আছে; সেটিকে বলে ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোন, তারপর সুপার সাইক্লোন। সিত্রাংয়ের বাতাসের গতিবেগ হবে ৮০ কিলোমিটার থেকে ১০০ কিলোমিটার। সুতরাং এই গতিবেগ হওয়ার কারণে এটিকে সিভিয়ার সাইক্লোন বলা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সারাদেশে লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় টানা বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর বৃষ্টির ফলে ঢাকার অনেক রাস্তায় পানি জমে যায়। যানবাহনও ছিল কম। অফিস-স্কুলগামীদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হয় রবিবার রাত থেকেই। গতকাল সারাদিন মুষলধারায় বৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। গতকাল দুপুর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলায় ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ ছিল না। গ্রামে থাকা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উৎকণ্ঠায় আছেন রাজধানীতে থাকা স্বজনরা।

বরিশাল:

সেখানে রবিবার রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী দুই-তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের সময় অমাবস্যা থাকায় জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ থেকে আট ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উঠতে পারে। এ কারণে দেশের উপকূলের বেশিরভাগ এলাকা ওই জোয়ারে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টি যুক্ত হওয়ায় দেশের উপকূলের সব জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানান, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অনেক স্থানে আকস্মিক বন্যা এবং পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুহুরী, মুন, খোয়াই, সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে।

পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ:

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় সতর্ক থাকার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। গতকাল সোমবার বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে সব রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, বিশেষায়িত নৌপুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং উপকূলবর্তী জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় এ নির্দেশ দেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ণ এলাকার জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

আইজিপি বলেন, দুর্যোগকালে আশ্রয়কেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও স্থাপনাসমূহের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকারী দল, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী ইত্যাদি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কক্সবাজার: সেখানে সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। অমাবস্যার কারণে জোয়ারের পানির উচ্চতা দুই থেকে তিন ফুট বেড়েছে। নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পর্যটকদের। বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। বন্ধ রাখা রয়েছে সেন্টমার্টিনের সঙ্গে জাহাজ যোগাযোগ। কক্সবাজার বিমানবন্দরেও ফ্লাইট ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপে মাছ ধরার কয়েকটি ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যপস্থাপনা কমিটি জানিয়েছে, ৫৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত আছে ৮৬টি মেডিক্যাল টিম ও ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম : নগরীতে সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। জোয়ারের পানিতে নগরীর নিচু এলাকা ডুবে গেছে। সিত্রাং মোকাবিলায় চট্টগ্রামে প্রস্তুত করা হয়েছে ১ হাজার ৯৬০টি আশ্রয়কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ  জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৪১ মিলিমিটার। আর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২ নটিকেল মাইল।

পতেঙ্গায় খবর নিয়ে জানা গেছে, সাগরপাড়ের প্রায় ২০ হাজার জেলে পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না। স্থায়ীয় কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন বলেন, ঘোর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও তারা উপকূল ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চান না। পুলিশের সহায়তায় তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, ২৯০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। ছুটি বাতিল করা হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, যে কোনো সেবার জন্য ০১৩২০১০৮৩৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, নগরীর উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে খোলা হয়েছে ৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র। যে কোনো সহযোগিতার জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৬৭৪৩৫৬৯০১ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নড়াইল : ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে গতকাল দুপুরে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মর্জিনা বেগম (৪০) বাগেরহাট সদর উপজেলার অর্জনবাহার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লোহাগড়া পৌর এলাকায় ভাড়া থাকতেন। জীবিকা চালাতেন গৃহপরিচারিকার কাজ করে।

কয়রা : উপজেলার হরিণখোলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ গতকাল ভোরে হঠাৎ করেই ধসে যায়। এরপর গ্রামের লোকজন নিজেরাই বাঁধ মেরামত শুরু করে।

ভোলা : সিত্রাংয়ের প্রভাবে ভোলায় গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের গতিবেগ বাড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এরই মধ্যে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন।

এদিকে চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ও চর কুকরি মুকরি ইউনিয়নে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৬ ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১১ হাজার মানুষ। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

বরগুনা ও পাথরঘাটা : ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ৬৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। প্রস্তুত রয়েছে তিনটি মুজিব কিল্লা। এ ছাড়া ৯ হাজার ৬১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে রয়েছেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদরে ১৮৫টি, আমতলীতে ১১১টি, তালতলীতে ৫৩টি, পাথরঘাটায় ১২৪টি, বেতাগীতে ১১৪টি এবং বামনায় ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫১০ জন থাকতে পারবেন।

নোয়াখালী ও হাতিয়া : গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। মেঘনায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৭ ফুট জোয়ার তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ৪০১ আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত আছে ৮ হাজার ৩৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হাতিয়ার নলচিরা, চরঈশ্বর, নিঝুমদ্বীপ ও চানন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাগেরহাট ও মোংলা প্রতিনিধি : সিত্রাংয়ের কারণে মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ রয়েছে। ঝড়ের কারণে পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে ঢুকতে পারেনি। পণ্য খালাসের পরও বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি তিনটি জাহাজ। ১০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

মোংলা, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার ২৯ হাজার মানুষ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, ৩৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ২৯৮ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী: গতকাল রাত থেকে পুরো জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা; বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সব ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ৭০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ২৬টি মুজিব কিল্লা প্রস্তুত রয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, জেলার প্রায় ১৬১টি পয়েন্টে ১৫ কিলোমিটারের বেশি এলাকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলার চর মোন্তাজ ইউনিয়নের চর আন্ডা এলাকার তুহিন হাওলাদার (২৮) জানান, তাদের এলাকায় বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। এতে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল।

পিরোজপুর ও মঠবাড়িয়া : সিত্রাংয়ের প্রভাবে পুরো জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রবিবার রাত ৩টা থেকেই পিরোজপুর সদরসহ আশপাশে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ২৬১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, নগদ টাকা, ২৫০ মেট্রিক টন জিআর চালসহ ৬৩টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে বলেশ্বর নদীতে পানি বাড়ায় মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া, ছোট মাছুয়া, খেজুরবাড়িয়া, উলুবাড়িয়া, বেতমোর, খেজুরবাড়িয়া, খেতাচিরা. কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, আমড়াগাছিয়া, সাংরাইল, কাটাখাল ও মাঝের চরের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।

চাঁদপুর : সিত্রাংয়ের কারণে চাঁদপুর-ঢাকা ও চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ৩২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র।

টেকনাফ:  সেন্টমার্টিনে নোঙর করে রাখা ১৫টি ট্রলার ডুবে গেছে। উড়ে গেছে এই দ্বীপের বেশ কিছু ঘরের চাল। নাফ নদসহ সাগরের পানি বাড়ায় সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।

ঝালকাঠি : জেলার অনেক এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। কাঁঠালিয়া উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমুয়া বেড়িবাঁধ। নদী ভাঙনের খবরও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জেলার ৪টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে।

রাজবাড়ী : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে এই সিদ্ধান্ত নেয় বিআইডব্লিউটিএ।

রাঙামাটি : কাপ্তাই হ্রদের (লেক) অভ্যন্তরীণ সব নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের বাসিন্দাদের। রাঙামাটি শহরে ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img