23 C
Dhaka

সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যায় হোটেলবন্দী হয়ে চরম বিপদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ ছাত্র-ছাত্রী

প্রকাশিত:

একটানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে গিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন ছাত্র-ছাত্রী।

তারা সুনামগঞ্জ শহরের একটি হোটেলে পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্দশার মধ্যে আছেন। পর্যাপ্ত খাবার নেই তাদের। নেই খাওয়ার পানি। সবমিলিয়ে তীব্র সংকটের মধ্যে আছেন তারা।

হঠাৎ করে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় হোটেল থেকে কোনোভাবেই বের হতে পারছেন না তারা। চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তাদের দিন কাটছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে রীতিমতো আতঙ্কিত তারা। এ অবস্থা থেকে তাদেরকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

গত মঙ্গলবার, ১৪ জুন রাতে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দল বেঁধে সুনামগঞ্জে যান ঢাবির ২১ জন ছাত্র-ছাত্রী। পরদিন বুধবার বৃষ্টির মধ্যেই ঘুরে বেড়ান তারা। ট্রলারে চেপে কোনোভাবে সুনামগঞ্জ শহরে পৌঁছান তারা। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটে। হঠাৎ বন্যার পানিতে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারা সুনামগঞ্জ শহরে পানসি নামের একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে তাদের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছেন।

তারা যে হোটেলে উঠেছেন সেই হোটেলের নিচেও পানি ঢুকে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলে চার্জ দিতে পারছেন না। খাবার-পানিও শেষ। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটর চালু করা যাচ্ছে না, তাই টয়লেটও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে ভয়ংকর অবস্থা। যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে চান তারা। এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়াও চেয়েছেন তারা।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে তাদের উদ্ধারের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img