32 C
Dhaka

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দূত দশমিনা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন আল হেলাল

প্রকাশিত:

সম্রাট লিওন তালুকদার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : সুশাসনের কারিগরের ছয় মাসে পদর্পণ দশমিনা উপজেলার সকল মানুষের ধারণা বঞ্চিত দশমিনাকে পাল্টে দিতে কোনো এক দূত এসে হাজির। মাগরিবের ওয়াক্ত। এসে আর উপজেলা পরিষদে গেলেন না তিনি৷

পাশের মসজিদে তার নামাজ শেষে এলো শুভক্ষণ। গমন করলেন তার নিজ কক্ষে। পরিচিত হতে লাগলেন সকলের সাথে৷ কে এই দূত? তিনি হলেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল।

যোগদানের পর থেকেই দশমিনার উন্নয়নে দিন রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয়ে বলা যায় ২৪/৭ সেবা চালু হয়েছে। দশমিনা উপজেলার সর্বত্র তিনি ঘুরে ঘুরে আইডেন্টিফাই করেছেন বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা।

যতদিন থাকবেন ততদিন তিনি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান ও সম্ভাবনার দার উন্মোচনই তার মূল লক্ষ্য। অসহায়,দারিদ্র্য পীড়িত, জেলে,মজুর ও শ্রমিক সহ দশমিনা বাসীর কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন তিনি। দশমিনার কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা উন্নয়ন ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

এই সামান্য সময়ে তিনি বেশকিছু জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। দায়িত্ব শুধু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নয় বরঞ্চ দায়িত্ব দশমিনার শুন্য পদে থাকা সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের। তার অনন্য উদ্যোগগুলো যেনো হ্রদয় ছুয়েছে দশমিনার মানুষের।

শিক্ষার ক্ষেত্রে তার অবদানের কথা তুলে ধরা খুব একটা সহজ বিষয় না। তিনি যেগদানের পরেই ২০২২ সালের এসএসসি ও দাখিল এর প্রায় ১৪০০ জন পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক ছাত্র অভিভাবক সহ সুধী মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হন। প্রতিনিয়ত সকাল পরিদর্শনে যান প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন তার একটি রুটিন কাজে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাথমিকের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান গুলোও নিয়মিত পরিদর্শন করেন।

যেগদানের পর শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। তার নিয়মিত মনিটরিং এর কারণে শিক্ষক ও ছাত্ররা পাঠদানে নিয়মিত ও মনোযোগী হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে তার এ নজরদারী অভিভাবক সহ সকলে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,প্রাথমিক শিক্ষা হলো শিক্ষার একটা ভিত্তি। সেই ভিত যদি শক্ত না হয় তাহলে শুরু শিক্ষিত জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো না।

আমাদের এসডিজির অভীষ্ট লক্ষ্যে ৪ হলো মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। আমাদের এই লক্ষ্য পূরণে শিক্ষক ছাত্র অভিভাবক সহ সকলে আন্তরিক হতে হবে। দশমিনা উপজেলার বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

এছাড়াও “দশমিনা স্কিল ক্লাব” তৈরি করে তিনি আবারও প্রশংসায় ভাসছেন। এর ফলে শিশু-কিশোরদের জীবনমান উন্নত হবে। স্বাস্থ্যখাতে তার অবদান অতুলনীয় । পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে যোগাযোগ সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে রাঙ্গাবালীর পরই দশমিনার অবস্থান।

দারিদ্র্য পীড়িত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে তিনি একাধিক বৈঠক করেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সাধারণ জনগণ যেন নির্বিঘ্নে সেবা নিতে পারে সে ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। সেখানে সেবা নিতে এসে কেউ যেন ভোগান্তির শিকার না হন সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। গরীব রোগীদের প্রায়ই সাধ্যমতো ঔষধের ব্যবস্থা করেন।

জটিল রোগের রোগীদের বিভিন্ন তহবিল থেকে সাহায্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তিনি “হেলথ কার্ড” করার ব্যাপারে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। দুর্গম চরগুলোতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।গর্ভবতী মায়েরা যেন নিয়মিত এএনসি, পিএনসি ও স্বাভাবিক প্রসব সেবা পায়। এসডিজি’র ৩ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্যে হলো সকলের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। যেহেতু স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।

তাই স্বাস্থ্য ঠিক মানে সব ঠিক। সম্প্রীতি বরিশালের গৌরনদী থেকে উদ্ধার হওয়া অসুস্থ বৃদ্ধ নারীর চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করে রাতারাতি প্রশংসিত হন তিনি। দশমিনার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কৃষি বিভাগকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল। উপজেলার স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত কৃষক কাজী আনিস সহ অন্যান্য কৃষকদের কৃষি কাজে উৎসাহ প্রদান করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, কৃষি নির্ভর অর্থনীতির দেশে আমাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হচ্ছে এক ইঞ্চি জমিও পতিত থাকবে না।আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা দশমিনাতে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে চাই। দশমিনার মুগ ডাল এখন বিদেশে রপ্তানি হয়।

তরমুজ চাষে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করবো। আমরা চাই কৃষিতে সমৃদ্ধি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগে তার পদক্ষেপের যেনো কমতি নেই। দশমিনা উপজেলার একটি বড় অংশ নদী। এখানকার জনসংখ্যার একটি বড় অংশ জেলে পেশায় জড়িত।

জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন একান্ত প্রয়োজন। জেলেরা যেন তাদের সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পারে সে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে সচেতন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। জেলেরা যেন দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি না থাকে সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছেন।

তারা যেন তাদের মাছের প্রকৃত দাম পায় সে ব্যাপারেও তিনি সজাগ রয়েছেন। প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে নতুন নতুন খামার তৈরির ব্যাপারে উৎসাহ ও প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছেন। পোল্ট্রি খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছেন।

দশমিনার মানুষ যেন মাছ মাংস খেয়ে সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারে এটাই তার লক্ষ্য। কেউ যেন অপুষ্টিতে না ভোগে। সকল মানুষের জন্য সে সমান সুযোগ সুবিধা ব্যবস্থা করেছেন। দশমিনা উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন আল হেলাল দশমিনা উপজেলার পাশাপাশি সে বর্তমানে গলাচিপা উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর

spot_img