20 C
Dhaka

২১ বছর পর ‘আপন ঠিকানা’র মাধ্যমে পরিবার খুঁজে পেলেন খুশি

প্রকাশিত:

খুসির বয়স তখন ৯ বছর। বাবা-মা আর সৎ পাঁচ ভাই-বোন নিয়ে তাদের সংসার। কিন্তু এক বোন মারা যায়। বাবা ২য় বিয়ে করায় মা আমার সব ভাই বোনদের নিয়ে চলে যায়। কিন্তু বাবা আমাকে মায়ের সাথে যেতে দেয়নি। আমার বাবা আমার সৎ খালার মাধ্যমে এক হিন্দু মহিলার বাসায় দিয়ে দেন। কিন্তু সেখানেও তার কোন ঠাই হলো না। পরে খালা অন্য এক বাসায় খেতে বসিয়ে পিছন থেকে চলে আসে। সেখানে অনেক আত্যাচার করায়, সেখান থেকে পালিয়ে চলে এসে আমি বাড়িতে আর ফিরতে পারিনি।

জানা গেছে, খুশি সব কিছু হারানোর দীর্ঘ তালিকার শুরু হয় তখনই। এরপর একের পর এক হাত বদল হতে থাকে খুশি। কোথাও সফল হতে পারেনি সে। কয়েকটি বাসায় কাজ করার পরে সর্বশেষে বরগুনা পাথরঘাটায় নাচনাপাড়া গ্রামের আবু মিয়ার বাড়িতে সে মেয়ের পরিচয়ে বড় হয়। আর সেখানেই কাটে তার দীর্ঘ একটা সময়। কিন্তু সেখানেও স্থায়ী হয়নি খুশী, জীবিকার তাগিদে কাজে যোগ দিতে পাড়ি জমাতে হয় ঢাকায়।

আর ঢাকা গিয়েই পরিচয় হয় আকবর হোসেন নামে এক যুবকের সাথে, পরে ভালোবেসে সংসার বাঁধেন ২জনে। স্বামীকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন বুনেন খুশি। ঘর আলো করে আসে এক ছেলে ও এক মেয়ে। কিন্তু এমন সুখের সংসারের সুখী হতে পারেনি খুশি, কারণ তাকে সবসময় তারা করে বেড়াচ্ছে তার হারানো পরিবার নিয়ে। তিনি খুঁজেতে ছিলেন তার পরিবার কে, কিছুদিন আগেও নিজের এলাকায় এসে খুঁজেছেন তার হারানো পরিবারকে, কিন্তু ভাগ্যর নির্মম পরিহাস পেলেন না তার পরিবার কে অবশেষে মোবাইলে আরজে গোলাম কিবরিয়ার ‘আপন ঠিকানা’ অনুষ্ঠান দেখতে পেয়ে সেখানে এসে বাবা-মা ও ভাই, বোনকে খুঁজতে আসলে, অবশেষে খোঁজ মিলে খুশির হারানো পরিবারের।

জীবনের এমন কঠিন সময় পার করা খুশি ২১ বছর পর খোঁজ পেয়েছেন নিজের পরিবারের। আরজে কিবরিয়ার উপস্থাপনায় স্টুডিও অব ক্রিয়েটিভ আর্টস লিমিটেডের ‘আপন ঠিকানা’ অনুষ্ঠানের বদৌলতে নিজ ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন খুশী। খুশি বরগুনা জেলার ৭নং সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গরিচন্না গ্রামের আওয়াল ও মিনারা বেগম দম্পতির মেয়ে। মা-বাবা দু’জনেই বেঁচে থাকলেও আলাদা হয়েছে তারা। রোববার (২৯ মে) রাতে আরজে কিবরিয়ার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে প্রচার হওয়া ১৯৫ নং পর্বের আপডেট ভিডির মাধ্যমে জানা যায় এসব তথ্য।

এর আগে গত (২৫ মে) প্রচারিত হয় খুশির বেসিক ভিডিও। যার ১ দিনের মাথায় প্রাথমিকভাবে তার পরিবারের সন্ধান নিশ্চিত করে আপন ঠিকানা টিম। এরপর ২৮ মে ধারণ করা হয় খুশির আপডেট পর্ব।

প্রচার হওয়া এক ঘণ্টার আপডেট ভিডিও দেখে জানা যায়, আনুমানিক ২০০১ সালের দিকে বরগুনা জেলার ৭নং সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গরিচন্না গ্রামে সৎ খালার মাধ্যমে এক হিন্দু মহিলার বাসায় দিয়ে দেন সেখানে থেকে তাকে ফিরিয়ে দিলে খালা আবার এক বাসায় খেতে বসিয়ে পিছন থেকে চলে আসে, সেখানেও অত্যাচার সইতে না পেরে রাগ করে বাসা থেকে চলে যায়। সে ভেবেছিল, সারাদিন বাইরে থেকে আবারও বাসায় ফিরবে। কিন্তু পথ ভুলে গিয়ে আর ফেরা হয়নি তার। তারপর কয়েকটি বাসায় কাজ করতে করতেই বড় হয়েছে সে। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে কেটে গেছে ২১টি বছর।

এদিকে খুশির বাবা ২১ বছর পড়ে মেয়ের খবর পেয়ে বড় মেয়ে নিপু যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার মেয়ে নেই ও আমার মেয়ে না, এখনো খুশিকে অস্বীকার করছেন বাবা আওয়াল। অন্য দিকে খুশীকে ফিরে পাওয়ার কথা শুনে তার বাড়ির পাড়া প্রতিবেশীরাও ছুটে এসেছেন খুশিকে দেখতে, ছুটে এসেছেন সরিষামুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফ। খুশি হারিয়ে যাওয়ার পর নিজের ঠিকানা খোঁজতে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। অবশেষে আর জে কিবরিয়ার উপস্থাপনায় স্টুডিও অব ক্রিয়েটিভ আর্টস লিমিটেডের ‘আপন ঠিকানা’ অনুষ্ঠানের বদৌলতে নিজ ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন তিনি। আপন ঠিকানা স্টুডিওতে এসে পরিবার ফিরে পেয়েও অনেকটায় বাকরুদ্ধ ছিলেন খুশি। বড় বোন নিপু নিতে আসে তাকে,কথা হয় বড় ভাই মিলন ও খুশি যাকে ২০টি বছর খুজেছে তার মায়ের সঙ্গে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে চিৎকার করে কান্না শুরু করে দেন আপন ঠিকানা স্টুডিওর ভিতরেই, এ দৃশ্য আপ্লুত করেছে লাখ লাখ দর্শককে।

খুশির বড় বোন নিপু বলেন, আমরা পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে খুশী চতুর্থ। সে হারিয়ে যাওয়ার পর নানাভাবে তাকে আমরা খুঁজেছি, থানায় জিডিও করেছি। কিন্তু তাকে আমরা পাইনি। একজনকে খুঁজে পেয়েছি খুশির পরিচয় দিয়েছে কিন্তু পরবর্তীতে বুঝতে পারি সে আমার বোন না, খুশী যে ভাবে আমাকে চিনতে পেরেছে, সব বলতে পেরেছে, সে পারেনি। এখন আমি শিওর ও ই আমার হারিয়ে যাওয়া সেই ছোট্ট বোন খুশি।

মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে আর কখনো দেখা হবে এমন আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে এখন তাঁর মুখে চওড়া হাসি। এক যুগের ও বেশি সময় পর তিনি খুঁজে পেয়েছেন নিজের পরিবারকে। আরজে গোলাম কিবরিয়া সরকার বলেন, আমরা আরও একটি ভিডিওর সফল সমাপ্তি করতে পেরেছি। এই বোনটিও তার পরিবারের কাছে ফিরে গেল। এরই মধ্যে আপন ঠিকানার মাধ্যমে ১৩৩ জন ও লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৩ জনসহ মোট ১৬৩ জন হারিয়ে যাওয়া মানুষকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img