26 C
Dhaka

খুলনায় ইনকিলাব পত্রিকা অফিসে ছাত্রী ধর্ষণ মামলার পলাতক পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত (ভিডিও)

প্রকাশিত:

খুলনায় ইনকিলাব পত্রিকা অফিসে ২০ বছর বয়সী কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর থেকে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম মঞ্জুরুল আহসান মাসুদ। তিনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তা। পিবিআই খুলনার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফফিকুর রহমান জানান, চলতি মে মাসের ১৫ তারিখে খুলনা শহরের ছোট মির্জাপুর এলাকায় একটি বাড়ির নীচতলায় বিএল কলেজের একজন ছাত্রীকে পিবিআই ইন্সপেক্টর মঞ্জুরুল আহসান মাসুদ ধর্ষণ করেন-এমন অভিযোগে খুলনা সদর থানায় মামলা হয়। এ ঘটনার পর থেকে আসামী মঞ্জুরুল আহসান মাসুদ পলাতক থাকায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরীর ছোটমির্জাপুর রোডের কাগজী হাউজের নিচতলার ইনকিলাব পত্রিকা অফিসে চাঞ্চল্যকর ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের সত্যতাও পাওয়া যায়। উক্ত ঘটনায় ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শারীরিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামতও মিলেছে।

এ প্রসঙ্গে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. ফারহানা কবির জানান, ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। পোশাক পরীক্ষা করা হয়েছে। সোয়াব নেওয়া হয়েছে। তার শরীরে ১.২ হাইমেন পাওয়া গেছে। অবশ্য ভিকটিমের শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার কথা শুনে মনে হয়েছে, তিনি ধর্ষণের শিকার।

ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গত বছর বিএল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। কিছুদিন আগে ভিকটিম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি সংক্রান্ত একটি সমস্যা সমাধানের জন্য পিবিআই ইন্সপেক্টর মাসুদের কাছে যান। সমস্যা সমাধানের কথা বলে কলেজছাত্রীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন ইন্সপেক্টর মাসুদ। এক পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কাগজী হাউজে ভিকটিমকে ডাকেন ইন্সপেক্টর মাসুদ।

ভিকটিম সেখানে যাওয়ার পর অফিসের ভেতর দীর্ঘ সময় ধরে তারা দুজন অবস্থান করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ইন্সপেক্টর মাসুদ এবং ভিকটিম একসঙ্গে কাগজী হাউজে প্রবেশ করছেন। দীর্ঘ সময় পর সেখান থেকে তাদের বের হয়ে আসারও প্রমাণও পাওয়া যায় সিসিটিভি ফুটেজে। এছাড়া ঘটনার আগেও পিবিআই অফিসে ইন্সপেক্টর মাসুদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন ভিকটিম।

কাগজী হাউজে অবস্থিত ইনকিলাব পত্রিকা অফিসে দুপুরের দিকে ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন ইন্সপেক্টর মাসুদ। ঘটনার পরপরই ভিকটিম খুলনা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার সোনালী সেন, সহকারী কমিশনার বায়েজিদ ইবনে আকবরসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর অফিসটি তালাবদ্ধ দেখতে পায় পুলিশ।

পরে তালা ভেঙে অফিসের ভেতর ঢুকে আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, কাগজী হাউজে পত্রিকার অফিস রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে পত্রিকা অফিসের কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img