20 C
Dhaka

সুনামগঞ্জ আমার জন্মস্থান, সেখানকার বন্যা দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে : শবনম ফারিয়া

প্রকাশিত:

ছোটপর্দার জনপ্রিয় তারকা অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া বড়পর্দায়ও তার অভিনয়ের কারিশমা দেখিয়েছেন। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের তুমুল জনপ্রিয় রহস্য সিরিজ মিসির আলীর ‘দেবী’ উপন্যাস অবলম্বনে একই শিরোনামের চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয় উপহার দিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন শবনম ফারিয়া।

প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেছেন এই জাত অভিনেত্রী। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাচসাস এবং মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আসর থেকে সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী এবং সেরা নবীন অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন।

অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বেশিরভাগ এলাকাই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিগত ১২২ বছরের মধ্যে এত ভয়াবহ বন্যা দেখা যায়নি এই অঞ্চলে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় সিলেটের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সিলেট বিমানবন্দরের রানওয়ে ডুবে যাওয়ায় বিমান যোগাযোগও বন্ধ। কার্যত সারাদেশ থেকে বিছ্চিন্ন হয়ে পড়েছে সিলেট।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সুনামগঞ্জের। সেখানকার ৯০ শতাংশ এলাকাই ডুবে গেছে পানিতে। শবনম ফারিয়ার জন্মস্থান সুনামগঞ্জ। তার বাবা সেখানে চাকরি করতেন। সুনামগঞ্জের ভয়াবহ বন্যার চিত্র কাঁদাচ্ছে নস্টালজিক শবনম ফারিয়ার হৃদয়। এ নিয়ে সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্ট দেন তিনি। শেয়ার দেয়ার পর প্রায় অর্ধ লাখ লাইক পড়েছে তার পোস্টে। এছাড়া মন্তব্য জমা পড়েছে সহস্রাধিক।

সুনামগঞ্জের বন্যা নিয়ে শবনম ফারিয়া তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সুনামগঞ্জ আমার জন্মস্থান! বাবার পোস্টিং ছিল সেখানে! যদিও বড় হয়ে আর সেখানে যাওয়া হয়নি। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে সেখানকার বন্যা পরিস্থিতির ছবি দেখে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

ফেসবুক পোস্টটি নজরে আসার পর অনেকেই সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করেন।ধীরে ধীরে পোস্টের নিচে রীতিমতো মন্তব্যের পাহাড় জমে যায়।

টপ ফ্যান তকমা পাওয়া সানজিদা ইসলাম লিখেছেন, সেখানকার মানুষের হাহাকার এবং যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আছেন তাদের যে কতটা কষ্ট শুধু আল্লাহই ভালো জানেন। সকলেই দোয়া করবেন যেন এই সংকটময় দুর্যোগ থেকে উঠে দাঁড়াতে পারি।

আবুল কায়েস লিখেছেন, আমার বাড়ি সুনামগঞ্জ তথা দোয়ারা বাজার উপজেলাধীন নরসিংপুর ইউনিয়নে। আমার নিজ গ্রাম এবং ইউনিয়নসহ আশপাশের ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।এখন পর্যন্ত না আছে প্রশাসন কিংবা সরকারের কোনো উদ্ধার তৎপরতা। ছোটছোট বাচ্চা, বৃদ্ধ বাবা-মা, গৃহপালিত গবাদী পশু নিয়ে মানুষ বড় অসহায় অবস্থায় আছে।
আশ্রয়স্থলের পর্যাপ্ত যায়গা না থাকায় মানুষ কোথাও আশ্রয় নিতে পারছে না।

জিয়াউর রহমান লিখেছেন, সিলেটে মানুষের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা নেই। খাবার কিছু নেই। যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ। সিলেটে জরুরী অবস্থা জারি করে মানুষকে উদ্ধার করার ব্যবস্থা করা হোক।

এমকেডি পিংকু লিখেছেন, আপনি সুনামগঞ্জের এই প্রথম জানলাম। ভালো নেই আপু আমাদের প্রিয় সুনামগঞ্জ।

মইনুল ইসলাম ভূঁইয়া লিখেছেন, বানের জলে ভেসে যাচ্ছে আপনার এলাকার মানুষ। তাদের জন্য কাজ করুন। এই অসহ্য চিৎকার করে যাওয়া মানুষের পাশে থাকুন।

মাহবুব আলম লিখেছেন, পোস্টের সাথে তাদের আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে পাশে দাঁড়ান। আপনারা সেলিব্রিটি মানুষ। অর্থ ও বিত্তবান মানুষ। আপনাদের উচিত তাদের সহযোগিতা করা। আল্লাহ সিলেট বাসীকে হেফাজত করুন।

তালহা তানজীব লিখেছেন, সিলেটের বন্যার অবস্থা ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে। সকল গনমাধ্যমকর্মী ভাইদের অনুরোধ করছি, সিলেটের বন্যাকে ফোকাস করে নিউজ করুন। এবারের বন্যা অন্যান্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি ভয়াবহ।

বাশার নামের একজন লিখেছেন, কাল রাত ১০টার পর থেকে আব্বা আম্মার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। পুরো সুনামগঞ্জে কারেন্ট নেই, নেটওয়ার্ক নেই, যার কাছেই ফোন দিচ্ছি তার ফোনই অফ দেখাচ্ছে। আব্বা আম্মা কীভাবে কি অবস্থায় আছেন, কি খাচ্ছেন কিছুই জানি না। জীবনে এতটা নিরুপায়, এতটা অসহায় আর কখনো লাগেনি। আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না। প্রে ফর সুনামগঞ্জ।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img