21 C
Dhaka

কৃষক হত্যা মামলার একমাত্র আসামী কেনান আলীকে ০৬(ছয়) মাস পর গ্রেফতার (ভিডিও)

প্রকাশিত:

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

র‌্যাব নিয়মিত জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, মাদক, অস্ত্রধারী অপরাধী, পর্নোগ্রাফি, ভেজাল পণ্য, ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, ধর্ষণ, মানব পাচারকারীসহ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে।

১. এরই ধারাবাহিকতায় সিপিসি-২, নাটোর ক্যাম্প, র‌্যাব-৫, রাজশাহীর একটি অপারেশন দল অদ্য ইং- ২৮ এপ্রিল, ২০২২ তারিখ ২০:০০ ঘটিকায় বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার চাটমোহর থানাধীন বোয়ালিয়া (ধুলাউড়ি) এলাকায় কোম্পানী অধিনায়ক অতিঃ পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন ও কোম্পানী উপ-অধিনায়ক সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে¡

একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার মামলা নং-০৬, তারিখ-০৪/১১/২০২১খ্রিঃ, ধারা- ৩০২ পেনাল কোড, জিআর- ৩৬৬/২১ (গুরুঃ) এর একমাত্র এজাহারনামীয় পলাতক আসামী ১। মোঃ কেনান আলী (৩৮), পিতা- মৃত রজব আলী, সাং- গোপিনাথপুর (জোলারকান্দি), থানা- গুরুদাসপুর, জেলা- নাটোরকে গ্রেফতার করা হয়।

কৃষক হত্যা মামলার একমাত্র আসামী কেনান আলীকে ০৬(ছয়) মাস পর গ্রেফতার

২. উল্লেখ্য যে আসামী ১। মোঃ কেনান আলী (৩৮) বিদেশ যাওয়ার জন্য মৃত আবুল কাশেম আলীকে টাকা প্রদান করেছিলেন। কিন্তু মৃত আবুল কাশেম আলী আসামী কেনানকে বিদেশ প্রেরণে ব্যর্থ হলে আসামী কেনান মৃত আবুল কাশেম আলীর নিকট তার পাওনা টাকা ফেরত চান।

এ নিয়ে আসামী কেনান এবং মৃত আবুল কাশেমের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই অর্থনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ০৩/১১/২০২১ খ্রিঃ তারিখ সকাল অনুমান ০৯:২০ ঘটিকায় আবুল কাশেম বাইসাইকেল যোগে নাজিরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলে নাজিরপুর ডিগ্রী কলেজের সামনে মৃত আবুল কাশেম কে আসামী কেনান লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘাড়ে আঘাত করে।

ফলে ভিকটিম বাইসাইকেল হতে পাকা রাস্তায় পরে যায় এবং আসামী কেনান বুকের বাম পাশে ও পেঠে টিপ চাকু দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল হতে দ্রুত পালিয়ে যায়। ভিকটিম আবুল কাশেম এর চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিম আবুল কাশেমকে মৃত ঘোষনা করে।

৩. উক্ত ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় ভিকটিম আবুল কাশেম এর স্ত্রী বাদী হয়ে আসামী কেনান(৩৮) এর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর হতে আসামী কেনান আতœগোপন করে। আসামী কেনান এর দ্বারা প্রকাশ্য দিবালোকে আবুল কাশেম এর হত্যার বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

পরবর্তীতে পলাতক আসামী কেনান কে গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্প, র‌্যাব-৫, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং ফলশ্রæতিতে পাবনা জেলার চাটমোহর থানাধীন বোয়ালিয়া (ধুলাউড়ি) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যাকান্ডে দীর্ঘদিনের একমাত্র পলাতক আসামী কেনান(৩৮) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

৪. আটককৃত আসামী কেনান(৩৮) কে হত্যাকান্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্বাক্ষীদের সম্মুখে সে মৃত আবুল কাশেম আলীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে। উপরোক্ত ঘটনায় আসামীকে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানায় হস্থান্তর করা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ

spot_img